বাহরাইন-কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা, অস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে বাহরাইন ও কুয়েতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলায় অস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, কয়েক ঘণ্টা আগে বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। তাদের দাবি, ওই হামলায় শত্রুপক্ষের জাহাজ ও উড়োজাহাজ পরিচালনায় ব্যবহৃত অস্ত্র এবং বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংরক্ষণাগারের ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া কুয়েতের আলি সালেম বিমানঘাঁটিতে এমকিউ-৯ ড্রোন মোতায়েনের র্যাম্প লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি। এতে কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়।
এর আগে কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা ‘শত্রুপক্ষের প্রজেক্টাইল’ মোকাবিলায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। একই সময়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চতুর্থবারের মতো বাহরাইনে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বেজে ওঠে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সংঘাত নিরসন ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা উদ্যোগ নেওয়া হলেও উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা থামেনি।
এদিকে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া কুয়েতের একটি স্থাপনায় আগুন লাগলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। কুয়েতের সরকারি বার্তাসংস্থার বরাত দিয়ে দেশটির ফায়ার ফোর্স জানিয়েছে, আগুনে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
অন্যদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাব দিচ্ছে। পাশাপাশি দেশটির জনগণকে নিরাপত্তা ও সুরক্ষাবিষয়ক সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সামরিক কর্তৃপক্ষ।
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
(ঢাকাটাইমস/১৫ জুলাই/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































