গভীর রাতে ইরানের ওপর আবারও হামলা চালালো যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। গভীর রাতে ইরানের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে তেহরান। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোকে কেন্দ্র করে মার্কিন অবরোধ পুনরায় কার্যকর হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সাময়িক শান্তি উদ্যোগ কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বুধবার (১৫ জুলাই) মধ্যরাতের পর থেকে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকা থেকে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর ওপর অবরোধ কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয়।
এর আগে ইরানি গণমাধ্যমে সিরিক ও বন্দর আব্বাস শহর এবং আশপাশের এলাকায় মার্কিন হামলার খবর প্রকাশ করা হয়। সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করাই ছিল সর্বশেষ অভিযানের মূল লক্ষ্য।
মঙ্গলবার ইরানের কর্মকর্তারা ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্র আবাদান, মাহশাহর, কেশম দ্বীপ ও কিশ দ্বীপসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা চালিয়েছে। এর আগের রাতেও বুশেহর ও বন্দর আব্বাস এলাকায় মার্কিন হামলার খবর পাওয়া যায়।
মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালির ওমান উপকূলীয় জলসীমায় চলাচলকারী দুটি জাহাজে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় একজন নাবিক নিহত হয়েছেন। একই দিনে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানেও ইরানের পাল্টা হামলার খবর পাওয়া গেছে।
তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক রেসুল সারদার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি কম তীব্রতার হলেও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। তার মতে, উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেলে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ঝুঁকি আবারও তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে দোহা থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ভিক্টোরিয়া গেটেনবি জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় উপসাগরীয় দেশগুলোর পাশাপাশি জর্ডানও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে, কারণ ইরানের হামলা অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দুটি সুপারট্যাংকারে হামলার কথা স্বীকার করেছে। বাহিনীটির দাবি, একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় জাহাজ দুটি অচল করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আইআরজিসি জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবিও করেছে। তবে বাহরাইন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ইরানের আকাশপথের হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি রয়েছে।
সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সংঘাতের বিস্তার বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
(ঢাকাটাইমস/১৫ জুলাই/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































