বেবিচকের কর্মশালায় চেয়ারম্যান
সেপ্টেম্বরের শুরুতেই থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চুক্তির সম্ভাবনা

আগামী ১৬ ডিসেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। তিনি বলেছেন, আগস্টের শেষ দিকে অথবা সেপ্টেম্বরের শুরুতে থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব জাপানকে দেওয়ার চুক্তি সই হতে পারে।
সোমবার দুপুরে বেবিচক কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘সিভিল এভিয়েশন অ্যান্ড এয়ার ট্রাফিক অপারেশন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। দেশের এভিয়েশন খাত নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের কারিগরি ও বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান সমৃদ্ধ করার উদ্দেশ্যে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। পরে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের হাতে সনদ তুলে দেন বেবিচক চেয়ারম্যান।
মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে থার্ড টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিমানবন্দর এলাকায় ড্রোন না ওড়ানোর বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চলতি বছরই এন্টি-ড্রোন সিস্টেম কেনা হবে।
বেবিচক চেয়ারম্যান আরও বলেন, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) স্থাপিত হওয়ায় দেশের সমুদ্রসীমা ব্যবহারকারী বিদেশি উড়োজাহাজ থেকে ফ্লাইট চার্জ বাবদ প্রতিবছর প্রায় ৮ শতাংশ রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে।
এভিয়েশন খাত সম্পর্কে নির্ভুল, ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বেসামরিক বিমান চলাচল একটি বিশেষায়িত, কারিগরি এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট খাত। তাই বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও সঠিক তথ্যের বিকল্প নেই। কর্মশালার উদ্দেশ্য হলো বেবিচকের কার্যক্রম, বিমানবন্দর পরিচালনা, এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, যাত্রীসেবা এবং এভিয়েশন খাতের বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে সাংবাদিকদের বাস্তবভিত্তিক ধারণা দেওয়া, যাতে তাঁরা আরও তথ্যসমৃদ্ধ ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন করতে পারেন।
তিনি জানান, অপারেশনস, নিরাপত্তা এবং এভিয়েশনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কর্মশালার আয়োজন করা হবে।
কর্মশালায় বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান সিভিল এভিয়েশন বিষয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। তিনি বেবিচকের দায়িত্ব ও কার্যক্রম, বিমানবন্দর পরিচালনা, এয়ারসাইড ও ল্যান্ডসাইড অপারেশন, যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন বিমান চলাচল নিশ্চিত করতে আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) মানদণ্ড ও সুপারিশকৃত কার্যপদ্ধতি অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সদস্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ লাবলুর রহমান বলেন, হজযাত্রীদের নির্বিঘ্ন সেবা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে এমবারকেশন ফি, যাত্রী নিরাপত্তা ফি ও এয়ারপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফি মওকুফ, জমজমের পানি বিতরণ, নামাজের পৃথক স্থান, বিশুদ্ধ খাবার পানি, ওয়াশরুম ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা, ট্রলি, চেয়ার ও কিউ বেল্ট সরবরাহ, মশা নিধন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে হজযাত্রীদের যাত্রা আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে বেবিচক কাজ করেছে।
এ ছাড়া বেবিচকের সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমোডোর মো. নূর-ই-আলম এয়ার ট্রাফিক অপারেশন বিষয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। তিনি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কার্যক্রম, আকাশপথে বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনা, এয়ার ট্রাফিক ফ্লো ম্যানেজমেন্ট, রেডিও ও ন্যাভিগেশন এইডস, ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেমের বিভিন্ন ক্যাটাগরি, অ্যারোনটিক্যাল লাইটস, অবস্ট্যাকল লিমিটেশন সারফেস, এয়ারফিল্ড ওরিয়েন্টেশন, এয়ারফিল্ডে বিমান পরিচালনার বিভিন্ন দিক এবং অপারেশন চলাকালে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































