শেরপুরে ধরা পড়ার ভয়ে শিশু বাইকচালক রাজুকে হত্যা

সাক্ষী রেখে দিলে তারা ধরা পড়ে যেতে পারে- এই ভয়ে বাইকচালক ১১ বছরের রাজু হোসেনকে হত্যা করেছে ছিনতাইকারী ও চোরাই ইজিবাইক কারবারি চক্র।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার আড়াশ গাবরগাড়ী এলাকা থেকে নিখোঁজের দুই দিন পর বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল পাঁচটার দিকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত রাজু হোসেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের রোরোয়া গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকসহ (মিশুক) নিখোঁজ হয় শিশু রাজু। রাজু স্থানীয় এক প্রতিবেশীর ইজিবাইক চালাত।
শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা আলম মিয়া শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পেয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মইনুদ্দিনের নেতৃত্বে ও এসআই বিকাশের তৎপরতায় পুলিশের একাধিক টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিচান চালায়। ২২ ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ এলাকা থেকে প্রতিবেশী মোস্তাকিম নামের এক যুবককে আটক করে।
পরে মোস্তাকিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শেরপুরের মির্জাপুর রানীরহাট মোড়ের ভাংরি ও চোরাই ইজিবাইক ক্রয়-বিক্রয় ব্যবসায়ী করিমকে আটক করা হয়। একই সাথে করিমের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকটি।
আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রাজুকে ভুল বুঝিয়ে ইজিবাইকসহ মির্জাপুরে করিমের দোকানে নিয়ে যায় মোস্তাকিম। সেখানে ইজিবাইকটি করিমের কাছে বিক্রি করা হয়। এরপর দোকানদার করিম মোস্তাকিমকে পরামর্শ দেয়, রাজু বিষয়টি প্রকাশ করলে তারা দুজনেই বিপদে পড়বে।
চুরির ঘটনা গোপন রাখা ও মূল সাক্ষী বিনাশ করার উদ্দেশ্যে দুজন মিলে শিশু রাজুকে হত্যা করে।
এরপর তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের আড়াশ গাবরগাড়ী এলাকা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শেরপুর থানার ওসি বলেন, এ ঘটনার সাথে জড়িত প্রধান দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
(ঢাকাটাইমস/৭আগস্ট/মোআ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































