প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সভাপতি মো. আশরাফ উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, এস এম জিলানী, আব্দুস সালাম আজাদ, রেজা আহাম্মেদ, লুৎফুর রহমান এবং মো. আব্দুল বাতেন অংশ নেন।
বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। এরপর কমিটির সদস্যদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর প্রধানদের পরিচিতি ও কার্যক্রম সম্পর্কে প্রাথমিক পর্যালোচনা করা হয়।
স্বাগত বক্তব্যের শুরুতে কমিটির সভাপতি বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ উৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর অকুতোভয় সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত ছাত্র-জনতাকেও তিনি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন এবং জুলাই আন্দোলনে আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। স্বাধীনতার পর সশস্ত্র বাহিনীর পুনর্গঠন, শৃঙ্খলা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা নীতির উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা তিনি তুলে ধরেন।
একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণের মতো উল্লেখযোগ্য কাজে দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বক্তব্যে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় রাখতে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, কলেবর বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন ও প্রশিক্ষণের উন্নয়নসহ সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক, দক্ষ ও সময়োপযোগী শক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ২৫টি দপ্তর ও সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে পরিচিতি এবং এসব দপ্তর ও সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে প্রাথমিক পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন কার্যক্রম সম্পর্কেও সংক্ষেপে কমিটিতে উপস্থাপন করা হয়।
বৈঠকে কমিটির পক্ষ থেকে মান্ধাতার আমলের মেশিনারিজ থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্মাণাধীন অবকাঠামোগুলোতে ‘সেভ এনার্জি’ (Save Energy) নিশ্চিত করার মাধ্যমে ‘সেভ মানি’ (Save Money) পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
সশস্ত্র বাহিনীতে মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন নিশ্চিত করারও সুপারিশ করা হয়। কমিটির সদস্যরা জনগণের পক্ষে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ ছাড়া একটি আধুনিক ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গঠনে সশস্ত্র বাহিনীর তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা প্রত্যাশা করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













