দুপুরে হাসিনার খরচ ছিল সাড়ে ১০ লাখ, তারেক রহমান খান ১৫০ টাকায়: চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৪২
অ- অ+

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মণি বলেছেন, যে অফিস থেকে হাসিনা প্রত্যেকদিন দুপুরের সময় সাড়ে ১০ লাখ টাকা, বছরে ৩৫ কোটি টাকা খরচ করেছেন। সেখানে তারেক রহমান ১৫০ টাকায় খান। তিনি কিছুদিন আগে বলেছেন, “দেশের একটা পয়সাও আমার হাত দিয়ে নষ্ট হবে না, আমি যতদিন আছি।”

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে ৮ দিনের সফরে বরগুনায় এসে বরগুনার সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি বলেন, কেয়ামতের মাঠে আল্লাহ আপনার হৃদয় দেখে বিচার করবেন। আপনি মোটা ছিলেন না শুকনা ছিলেন, কালো ছিলেন না ফর্সা ছিলেন, লম্বা ছিলেন না খাটো ছিলেন—তা দেখবেন না। আপনার হৃদয় দেখবেন। আল্লাহর প্রতি আপনার ঈমান আছে কি-না, বিশ্বাস নিয়ে আপনি মারা গেছেন কি-না, তা দেখেই হাশরের ময়দানে বিচার করবেন। আপনারাও তারেক রহমানের হৃদয় দেখবেন। মোটা কাপড়, সিম্পল জীবনযাপন করেন। গত পরশুদিন দুপুরে ডেরস ভাজি, কুমড়া ভর্তা ও ডাল দিয়ে তার (তারেক রহমান) সঙ্গে খেয়ে এসেছি।

তিনি আরও বলেন, ভাগ্য বাংলাদেশের যে তারেক রহমানের মতো একজন মানুষ দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। কাজেই এইরকম ভাগ্য যদি আমরা নষ্ট করি, ধরুন তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকলেন না অন্য কেউ একজন প্রধানমন্ত্রী হলেন। তাইলে তার থেকে কি সে ভালো চালাবে?

চিফ হুইপ বলেন, তারেক রহমান পার্লামেন্টের স্পেশাল একটি সভায় খুব কঠোর ও কঠিনভাবে কিছু কথা বলেছেন। তারেক রহমান ওই সভায় বলেছেন বলে উল্লেখ করেন, “আপনারা এমপি হয়েছেন, সম্মানিত হয়েছেন। কিন্তু আপনারা যদি কর্মীবান্ধব না হন, কর্মীদের নিয়ে যদি না চলেন, তাহলে আমি কারে নিয়ে চলব? আমার কর্মীরাই সব, ১৭ বছর যুদ্ধ করে আমাকে এখানে বসিয়েছে। আপনাদের বাসাইছে, আপনারা এমপি হয়েছেন। এখন কর্মীদের দেখবে কে?” তিনি (তারেক রহমান) শক্তভাবে বলেছেন, “কোনো চাঁদাবাজির জায়গা নেই। নো চাঁদাবাজি, নো দখল এবং নো সন্ত্রাসী। এগুলো যদি হয় তাহলে কঠোর ব্যবস্থা হবে।”

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিষয়ে তিনি বলেন, মিষ্টি বহিষ্কার হয়েছে সেটা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ না। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা হবে এবং তা কঠিনভাবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, জনপ্রিয় ব্যক্তিরাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেন। একজনকে আমরা সাপোর্ট করার চেষ্টা করব। এখনে কোনো মার্কা থাকবে না। ধানের শীষ বা নৌকা অথবা অন্য কোনো মার্কা থাকবে না। উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন সে কারণেই মার্কা থাকবে না। মার্কায় সম্পর্ক নষ্ট হয়। সম্পর্ক যাতে তৈরি হয় সে কারণেই মার্কা উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। জনপ্রিয় একজন ব্যক্তি যদি বিএনপি না করেও নির্বাচিত হন, যাতে কোনো বাধা না থাকে সে কারণেই এ ব্যবস্থা এবং এটি একটি সঠিক গনতান্ত্রিক পরিবেশ।

চিফ হুইপ আরও বলেন, জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতায় আসে, কুকুর আর মানুষকে একসঙ্গে ডাস্টবিনে খেতে আমি দেখেছি। ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে না খেয়ে। রক্ষী বাহিনী ও বাকশাল দেখেছি। ওই সময় জিয়াউর রহমান এসে তিন বছরের মধ্যে খাদ্যের অভাব দূর করেছেন এই দেশ থেকে। স্বয়ংসম্পূর্ণতো হয়েছেই এবং সেনেগালে খাদ্য ও চাল রপ্তানি করেছে। এখন গত ১৭ বছরে না আছে অর্থনীতি, না আছে সমাজনীতি, না আছে গনতন্ত্র। কোনো কিছুই নাই। এর মধ্যেই তারেক রহমান সাহেব এসে বসেছেন। কাউকে বাসালেও তো বসতে চাইবে না। কাজেই তিনি বসে আপনাদেরকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। ঐতিহাসিকভাবে যত দুঃসময়ের সময় কাঁধে পড়ে বিএনপির ওপর। কাজেই তিনি (তারেক রহমান) চেষ্টা করছেন, গণতন্ত্রের উন্নয়নে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছেন।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
৪০০ পরিবারের দায়িত্ব নিলেন রাশমিকা
বিরোধীদলকে ভোট দিলে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে: মির্জা ফয়সল
সার ব্যবসায় না থেকেও ডিলারশিপে ছাত্রদল সম্পাদক, বঞ্চিত বিএনপি নেতাকর্মীদের মানববন্ধন
প্রবাসী কর্মীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি