কুমিল্লায় টিকটকের বন্ধুদের সঙ্গে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখে বাড়ি ছেড়েছিল ৪ মেয়ে, উদ্ধার হবিগঞ্জে

কুমিল্লা প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৫৫
অ- অ+

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকটকে পরিচয়ে সখ্যতা গড়ে উঠে ছেলেদের সঙ্গে এবং তাদের সঙ্গে নতুন জীবন শুরুর স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি ছেড়েছিল কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে তিনজন পঞ্চম শ্রেণির এবং একজন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হলেও তারা আর শ্রেণিকক্ষে যায়নি। পরে পুলিশের অনুসন্ধানে নিখোঁজের চাঞ্চল্যকর এই রহস্য উদঘাটিত হয়। নিখোঁজ হওয়ার এক দিনের মধ্যেই সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থেকে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করে পুলিশ।

এ সময় উদ্ধার করা হয় তাদের সঙ্গে নেওয়া মূল্যবান জিনিসপত্রের কিছু অংশও। যদিও, উদ্ধারকৃতদের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতের সঙ্গে কোনো ছেলের সখ্যতা বা যোগাযোগ ছিল না। তবে বড়দের এসব পরিকল্পনা সে জানত বিধায় অন্যরা তাকেও নিজেদের সঙ্গে নিয়ে যায়।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান পিপিএম।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানায়, গত ১২ অক্টোবর সকালে বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাইশা আক্তার (১২), ঝুমুর (১২), সোনিয়া (১৩) এবং মাইশার ছোট বোন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাত (৮) স্কুলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। তবে তারা কেউই বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়নি। বিকেলে বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তারা জেলা পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন।

এদিকে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অনুসন্ধান শুরু করে। পরে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের থানায় ডেকে বিষয়টি জানানো হলে তারা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এরপর নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ। পাশাপাশি সারাদেশের থানাগুলোতে তাদের ছবি ও পরিচয়সংবলিত বেতার বার্তা পাঠানো হয়। পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ১২ অক্টোবর দিবাগত রাত পেরিয়ে ১৩ অক্টোবর রাত ২টার দিকে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানা পুলিশের সহায়তায় চার শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় তেমন আগ্রহী ছিল না এবং নিয়মিত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকত। টিকটকে ভিডিও প্রকাশ ও অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক বা সখ্যতা গড়ে ওঠে। এর মধ্যে মাইশার সঙ্গে আবু হুজাইফা, মারজান, হৃদয় ও জিসান; সোনিয়ার সঙ্গে সুজন ও মিনহাজ এবং ঝুমুরের সঙ্গে মোফাজ্জল ও শোয়েব নামের কয়েকজন ছেলের যোগাযোগ ছিল। তবে অনলাইনে পরিচয় হলেও ওই ছেলেদের প্রকৃত ঠিকানা সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা কিছুই জানত না।

মূলত টিকটকের মাধ্যমে পরিচিত এসব ব্যক্তির হাত ধরে নতুন জীবন শুরুর পরিকল্পনা থেকেই তারা বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ উদ্দেশ্যে বাসা থেকে স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র সঙ্গে নেয় তারা। পরে কুমিল্লার টাউন হল মোবাইল মার্কেটে মাইশার পরিবারের ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন চার হাজার টাকায় বিক্রি করে। প্রাপ্ত সেই টাকা নিয়ে প্রথমে ঢাকায় যায় চার শিক্ষার্থী।

তাদের পরিকল্পনা ছিল ঢাকায় গিয়ে নিজেরা উপার্জন করবে, স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করবে এবং টিকটকে পরিচিত ওই ছেলেদের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করবে। তবে ঢাকায় গিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে না পেরে তারা সেদিনই ঝুমুরের দাদাবাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে সেখান থেকেই পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।

পুলিশ সুপার জানান, মাইশার বিক্রি করা মোবাইল ফোনটি টাউন হল মার্কেট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নেওয়া অন্যান্য স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা এখনো পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

এসময়, সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পংকজ বড়ুয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামসুল আলম শাহসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকা টাইমস/১৪অক্টোবর/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
ফ্যামিলি কার্ডে অনিয়ম করলে কাউকে ছাড় নয়: প্রতিমন্ত্রী টুকু
আট বিভাগে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
এলপিজি ব্যবসায়ীদের ডাকা দুই দিনের ধর্মঘট প্রত্যাহার
নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনে পুলিশ সদরদপ্তরের একগুচ্ছ পরামর্শ