সাড়ে ৭ কোটি টাকার ওষুধ পাচার, গ্রেপ্তার-৪
ক্যানসারসহ জটিল রোগের ওষুধ পাচার করছিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, জড়িত চায়না নাগরিক

ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা মূল্যের ওষুধ বিদেশে পাচারের অভিযোগে এক চীনা নাগরিকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৩। গ্রেপ্তারকালে তাদের হেফাজতে থাকা বিপুল পরিমাণ ওষুধের পাশাপাশি ৬ লাখ ৬ হাজার ১৪০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন– চীনা নাগরিক লি ফেন (৩৪), বকুল নাহার বিথী (২৪), ইউনুস আলী (২৬) ও সজীব হাওলাদার (২৮)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর শাহজাহানপুরে এসআরবি-৩ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে বিদেশে ওষুধ পাঠানো এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে এসআরবি-৩ এর একটি বিশেষ দল উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। জব্দ করা ওষুধের ধরন, পরিমাণ এবং এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চক্রটি বাংলাদেশে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া ওষুধ কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে পাঠাত। বিশেষ করে ক্যানসারসহ জটিল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ পাচারে চক্রটির সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। কুরিয়ারে পাঠানোর জন্য ২৪ থেকে ২৫ কেজি ওজনের কার্টনে ওষুধ প্যাকেটজাত করা হতো।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, চীনা নাগরিক লি ফেন ২০২৪ সালের আগস্টে ৩০ দিনের পর্যটক ভিসায় বাংলাদেশে আসেন। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই থেকে তিন দিন আগে তিনি চীনে ফিরে যেতেন। এরপর এক থেকে দুই দিনের মধ্যে আবার পর্যটক ভিসায় বাংলাদেশে আসতেন।
গ্রেপ্তার বকুল নাহার বিথী ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় প্রশাসনে পড়াশোনা করেন। এ সময় তিনি চীনা ভাষা শেখেন। পরে দেশে ফিরে বিভিন্ন চীনা নাগরিকের সঙ্গে দোভাষী হিসেবে কাজ করেন।
ডিএইচএলসহ কুরিয়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে
সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-৩ এর অধিনায়ক জানান, বিদেশে ওষুধ পাঠানোর ঘটনায় ডিএইচএলসহ একাধিক কুরিয়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ডিএইচএলের মাধ্যমে ওষুধ পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে। তবে অন্য কোনো কুরিয়ার সার্ভিস এ ঘটনায় জড়িত কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, বকুল নাহার বিথীর নামে বিভিন্ন পার্সেল পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে। তবে পার্সেলগুলোতে ওষুধের কথা উল্লেখ না করে সাধারণ পণ্য হিসেবে পাঠানো হতো।
চীনা নাগরিকের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহে দোভাষী হিসেবে বিথীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান এই কর্মকর্তা। তার ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে বিথী কিছু তথ্য গোপন করছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে নিজের মতো করে তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এর মাধ্যমে অন্যদের আড়াল করার চেষ্টা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, গত ১৩ অক্টোবর লাওসের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কুরিয়ারে পাঠানো ১০০ কেজি ওজনের একটি চালান বৈধ কাগজপত্র না থাকায় জব্দ করে। সংশ্লিষ্ট চক্রটি প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ না করেই ওষুধ পাঠাচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির কিছু কর্মচারী অধিক মুনাফার আশায় চক্রটির সঙ্গে যোগসাজশে অবৈধ ব্যবসায় জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













