দেড় মিনিটের বক্তব্যে মন্ত্রীকে ৩৫ বার ‘স্যার’, ভাইরাল ইউএনও

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:২৪
অ- অ+

মাত্র দেড় মিনিটের বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুকে ৩৫ বার ‘স্যার’ সম্বোধন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রাজারহাটে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেওয়া তার বক্তব্যের একটি অংশ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বক্তব্যে রাজারহাটে সার্ভেয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি, সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা এবং সরকারি চাকরিজীবীদের পে-স্কেল নিয়ে কথা বলেন তিনি। তবে বক্তব্যজুড়ে বারবার ‘স্যার’ সম্বোধন করাই আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

বুধবার বেলা ১১টায় উপজেলার বৈদ্যের বাজার হরিসভা সংস্কৃতি দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে অসচ্ছল হরিজন, রবিদাস ও বেদে সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে শাড়ি বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইউএনও তানজিলা তাসনিম। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। অনুষ্ঠানে শতাধিক শাড়ি বিতরণ করা হয়।

বক্তব্যে ইউএনও রাজারহাটে একটি সার্ভেয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকার কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে দক্ষ সার্ভেয়ারের প্রয়োজন রয়েছে। এ অবস্থায় রাজারহাটে একটি সার্ভেয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হলে উত্তরবঙ্গের অনেক মানুষ উপকৃত হবেন।

বিষয়টি যথাসময়ে মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের জন্য মন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষার প্রসারে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

এর আগে রাজারহাটে প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন এবং হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য উপহার দেওয়ায় মন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইউএনও। ভিজিএফের চাল আলাদা বস্তায় সরবরাহের উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন তিনি। তার ভাষ্য, চাল পরিবহণ ও বস্তা ওঠানো-নামানোর ক্ষেত্রে আগে যেসব সমস্যা হতো, নতুন উদ্যোগে সেগুলো কমবে।

এ ছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের পক্ষ থেকে নবম পে-স্কেল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তানজিলা তাসনিম। তার মতে, দীর্ঘ অপেক্ষার পর পে-স্কেল চালুর উদ্যোগ সরকারি চাকরিজীবীদের কর্মস্পৃহা বাড়াতে সহায়তা করবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন ইউএনও। দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার আশাও প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, জেলা পুলিশ সুপার ফজলে রাব্বি, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শফিকুর রহমান, সদস্যসচিব সাহিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সার্ভেয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি থেকে শুরু করে সরকারি উদ্যোগের প্রশংসা—বক্তব্যে বিভিন্ন বিষয় উঠে এলেও মন্ত্রীকে বারবার ‘স্যার’ সম্বোধনের বিষয়টি নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। দেড় মিনিটের বক্তব্যে ৩৫ বার এই সম্বোধন করার বিষয়টি ঘিরেই আলোচনায় এসেছেন ইউএনও তানজিলা তাসনিম।

ইউএনও তানজিলা তাসনিমের হুবহু বক্তব্যটি তুলে ধরা হলো-

ইউএনও হিসেবে স্যার, রাজারহাটের জন্য একটা কিছু চেয়েই ফেলব, স্যার। যেহেতু আপনি জানেন যে তারা চায় না এবং স্যার, আমার বাড়িও সিলেটে, স্যার এবং আমাদের এখানে আমি যেভাবে আমাদের বিভিন্ন স্যার দেখি যে প্রবাসী বা অন্যান্য অনেক বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ স্যার। এটির জন্য আল্লাহর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা, স্যার। আমি এখানে রাজারহাটে স্যার, আমার যেটা মনে হয়েছে। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান থেকে যেহেতু স্যার সরকার কারিগরি শিক্ষার দিকে নজর দিয়েছে এবং এটিই স্যার বাস্তবতা স্যার।

রাজারহাটে যদি একটি স্যার সার্ভেয়ার কলেজ স্থাপন করা যায়। আপনি জানেন স্যার ভূমির বিভিন্ন ইস্যুতে আমরা কিন্তু সার্ভেয়ার সংকটে ভুগছি, স্যার। আমাদের সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সার্ভেয়ার দরকার আছে। বেসরকারি সার্ভেয়ার কলেজ করলে হয়তো, স্যার আপনার বা আপনাদের এই সবগুলো মোটামুটি উত্তরবঙ্গের অনেকেই স্যার উপকৃত হতো, স্যার।

টেকনিক্যাল জ্ঞানের সঙ্গে সঙ্গে স্যার, এটা কিন্তু স্যার, আশা করব, স্যার। মন্ত্রিপরিষদে উত্থাপন করবেন সময়মতো, স্যার। ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছেন যেমন স্যার আমাদের ভিজিএফের চালের যে বিষয়টা। যে আলাদা বস্তা করা বা চেয়ারম্যানরা যে সমস্যায় পড়ে তাদের লোড-আনলোডের ব্যাপারে পরিবহণের বিষয়গুলো ইতোমধ্যে স্যার আপনি উদ্যোগ নিয়েছেন।

এ ছাড়া, স্যার আপনি অনেকগুলো বলেছেন। আর স্যার আজকে যেহেতু সুযোগ পেয়েছি স্যার। আপনার মাধ্যমে স্যার প্রধানমন্ত্রীকে স্যার ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। আমাদের সব সরকারি চাকরীজীবির পক্ষ থেকে সুদীর্ঘ একটা অপেক্ষার পর স্যার একটা পে-স্কেল হয়েছে। যেটি স্যার আমাদের কর্ম উদ্দীপনা যোগাবে স্যার। এটির জন্য আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই স্যার। অসংখ্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, আমি আমাদের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সাংবাদিক এবং আমাদের এখানকার যারা স্যার লোকাল রাজনৈতিক বিশেষ করে বিএনপির নেতৃবৃন্দ আছেন। তারা স্যার সব ধরনের কাজে আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতোটা চমৎকারভাবে আছে আমি আশা করবো যে বাকি সময়টুকু প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত আমরা খুব চমৎকারভাবে সুন্দরভাবে এটি বিসর্জন দিয়ে এবারের প্রোগ্রামটি আমরা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করব। সবার প্রতি আমি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে আমার বক্তব্য শেষ করছি। ধন্যবাদ স্যার। আসসালামু আলাইকুম।

(ঢাকাটাইমস/২২ অক্টোবর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
সুন্দরবন পরিদর্শন শেষে মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
বাদাম বেচি, আলহামদুলিল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মিলাইছি... জীবন সার্থক
২২৭ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে টাইফুন চাম্পি
হেফাজতের নেতৃত্বে কওমিভিত্তিক ৭ দলের ‘সমমনা ইসলামী দল’ জোট গঠন