পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখাই লক্ষ্য, কৃষিতে নতুন প্রযুক্তির ঘোষণা কৃষিমন্ত্রীর

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:১৪
অ- অ+

কৃষিপণ্যের সংরক্ষণকাল বৃদ্ধি, পচন রোধ এবং ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংসে গামা ইরেডিয়েশন প্রযুক্তি দেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। তাঁর মতে, এ প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ফলমূল ও কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

দেশে চলতি বছর পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতেও যেন বিদেশ থেকে এক কেজি পেঁয়াজ আমদানি করতে না হয়, সে লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ভবানীপুরে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্রে দেশের প্রথম বৃহৎ পরিসরের গামা ইরেডিয়েশন সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য এখনো প্রত্যাশিত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। এর পেছনে অন্যতম কারণ প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে কৃষিপণ্যকে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাতে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গামা ইরেডিয়েশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিপণ্যের ক্ষতিকর জীবাণু নিয়ন্ত্রণ, পচন রোধ এবং দীর্ঘদিন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা যাবে। এতে আম, কাঁঠাল, আনারসসহ দেশীয় ফল বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা বাড়বে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য খাদ্যনিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।

কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফসলের অপচয় কমানোও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে পেঁয়াজ, আলু, শাকসবজি ও বিভিন্ন ফলমূল দীর্ঘসময় সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে।

আমদানি করা খাদ্যপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো খাদ্যপণ্য যাতে দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান কৃষিমন্ত্রী।

বিনা সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ লাখ কিউরি ক্ষমতাসম্পন্ন এ গামা ইরেডিয়েশন সেন্টারটি কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানির মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে খাদ্যপণ্যে থাকা ক্ষতিকর জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সংরক্ষণকাল বাড়ানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্যের কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থার উন্নয়নেও কেন্দ্রটি সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান, বাংলাদেশে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিনিধি ড. জিয়াকুন শি, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম. মঈনুল ইসলামসহ দেশি-বিদেশি কৃষিবিজ্ঞানী, গবেষক, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিনা সূত্রে আরও জানা যায়, ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না আইসোটোপ অ্যান্ড রেডিয়েশন করপোরেশন (সিআইআরসি) কেন্দ্রটি নির্মাণের কার্যাদেশ পায়। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির এটি প্রথম বড় পরিসরের প্রকৌশল, ক্রয় ও নির্মাণ (ইপিসি) প্রকল্প।

(ঢাকা টাইমস/৩১অক্টোবর/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে ছিল এবং থাকবে: মীর শাহে আলম
নভেম্বর-ডিসেম্বরে চালু হচ্ছে পাঁচটি শিশু হাসপাতাল
তাহসিফের মৃত্যুর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত দাবি রাওয়ার
মিরপুরে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৮ উইকেটের জয়