ঢাকায় ৭ কোম্পানির অধীনে চালু হলো ৮৬১টি বাস, চলবে সাত রুটে

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাস রুট র্যাশনালাইজেশন কার্যক্রমের আওতায় সাতটি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সাতটি পরিবহন কোম্পানির অধীনে এসব রুটে ৮৬১টি বাস পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আজ রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) তালিকা অনুযায়ী, সাতটি রুট হলো—গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে আজিমপুর, টঙ্গী থেকে আজিমপুর, মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া, মোহাম্মদপুরের ঘাটারচর থেকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার, ঘাটারচর থেকে চিটাগাং রোড-কাঁচপুর, ঘাটারচর থেকে আব্দুল্লাহপুরের ধউর এবং মিরপুর-১ থেকে কাকলী-বনানী সার্কুলার রুট।
রুটভিত্তিক বাসের সংখ্যা ও কোম্পানিগুলো হলো—শিববাড়ী-আজিমপুর রুটে ভিআইপি সিটি পরিবহনের ২৫৩টি, টঙ্গী-আজিমপুর রুটে ঢাকা সিটি পরিবহনের ২০টি এবং মিরপুর চিড়িয়াখানা-চুনকুটিয়া রুটে চিড়িয়াখানা সিটি পরিবহনের ১৩৩টি বাস।
এ ছাড়া ঘাটারচর-ডেমরা রুটে রমজান আলী সিটি পরিবহনের ৮০টি, ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে থ্রি স্টার সিটি পরিবহনের ১২০টি, ঘাটারচর-ধউর রুটে পি. পি. বি. সিটি পরিবহনের ২২৫টি এবং মিরপুর-১-কাকলী সার্কুলার রুটে ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের ৩০টি বাস চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে।
সাতটি রুটের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২০০ কিলোমিটার। এসব রুটে এসি ও নন-এসি—দুই ধরনের বাস চলবে।
রুট র্যাশনালাইজেশন ব্যবস্থায় চলাচলকারী বাসের জন্য বেশ কিছু নিয়মও নির্ধারণ করেছে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। নিয়ম অনুযায়ী, বাস পরিচ্ছন্ন ও চলাচলের উপযোগী রাখতে হবে। বাসের সামনে ও পেছনে ডিজিটাল বোর্ডে রুট নম্বর, যাত্রার শুরু ও শেষ গন্তব্য এবং গাড়ির ক্রমিক নম্বর প্রদর্শন করতে হবে। পাশাপাশি বাসে যাত্রাপথের স্টপেজের তালিকা রাখতে হবে।
চালক ও কর্মীদের পরিচ্ছন্ন পোশাক পরতে হবে এবং যাত্রীদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণ করতে হবে। নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া অন্য কোথাও যাত্রী ওঠানো-নামানো যাবে না। অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়ার জন্য স্টপেজে নির্ধারিত সময়ের বেশি অপেক্ষা করা যাবে না। এ ছাড়া রাস্তায় অন্য গাড়ির চলাচলে বাধা সৃষ্টি এবং নিয়মবহির্ভূত ওভারটেকিং করা যাবে না।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী দেশের সম্পদ। এই জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে হলে সর্বক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অতীতে নানা প্রতিবন্ধকতা ও প্রভাবশালী মহলকে প্রশ্রয় দেওয়ার কারণে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ বিলম্বিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থানের কারণে পরিবর্তনের উদ্যোগ দ্রুততর হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাতটি রুটে বাস চলাচলের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া উদ্যোগ শুধু উদ্বোধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পর্যায়ক্রমে ঢাকার ৩২টি রুটে এ ব্যবস্থা চালু করা হবে। প্রতিটি রুটের বাসে আলাদা রং ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মসিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিআরটিএর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এম এ বাতেন এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের মহাসচিব মোখলেছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
(ঢাকাটাইমস/০১ নভেম্বর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












