‘সচেতনতাই সাইবার নিরাপত্তার প্রথম হাতিয়ার’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৪৪
অ- অ+

‘চিন্তা করে ক্লিক করুন; সাইবার জ্ঞানই আপনার সেরা নিরাপত্তা’—এই প্রতিপাদ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে সাইবার সচেতনতাবিষয়ক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ছাত্রীরা অংশ নেন।

গতকাল মঙ্গলবার রোকেয়া হল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ কর্মসূচির আয়োজন করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রোকেয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম। প্রধান অতিথি ছিলেন সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) ডিআইজি (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাইফুদ্দিন শাহীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিসির সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনসের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিকাশ লিমিটেডের এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান এ কে এম মনিরুল করিম।

কর্মসূচিতে সাইবার হয়রানি, অনলাইন ব্ল্যাকমেইল, পরিচয় জালিয়াতি, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, ভুয়া লিংক ও অনলাইন প্রতারণাসহ বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব মাধ্যমের অপব্যবহারের ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষ করে নারী ও তরুণদের ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি ও পরিচয়কে কেন্দ্র করে হয়রানি ও প্রতারণার ঘটনা ঘটতে পারে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. সাইফুদ্দিন শাহীন বলেন, বর্তমান প্রজন্ম একই সঙ্গে বাস্তব ও ডিজিটাল—দুই জগতেই বসবাস করছে। প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে নতুন সুযোগের পাশাপাশি নতুন ধরনের ঝুঁকি ও অপরাধও তৈরি হয়েছে। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি এর নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কেও সচেতন হতে হবে।

তিনি বলেন, সচেতনতাই সাইবার নিরাপত্তার প্রথম ও প্রধান হাতিয়ার। সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

শিক্ষার্থীদের শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পাশাপাশি ওটিপি ও পিন নম্বর গোপন রাখা, অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ না করা এবং তথ্য যাচাই না করে শেয়ার না করার পরামর্শ দেন তিনি। অনলাইন বুলিং, সাইবার হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল বা প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান।

অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা, যোগাযোগ, বিনোদন ও দৈনন্দিন কাজের বড় একটি অংশ এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মনির্ভর। ফলে সাইবার নিরাপত্তা শুধু প্রযুক্তিবিদদের বিষয় নয়; এটি প্রতিটি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও নাগরিকের জন্য প্রয়োজনীয় জীবনদক্ষতা।

তিনি বলেন, সাইবার অপরাধীরা অনেক সময় প্রযুক্তির দুর্বলতার চেয়ে মানুষের অসতর্কতাকে বেশি কাজে লাগায়। ওটিপি শেয়ার করা, অপরিচিত লিংকে ক্লিক করা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের কারণে একজন ব্যক্তি আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। এ কারণে সচেতনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাসকে সাইবার নিরাপত্তার কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

রোকেয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে সাইবার জগতে নিরাপদে চলাচল করতে পারে এবং কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হলে নির্দ্বিধায় প্রতিবাদ ও অভিযোগ জানাতে পারে, সে জন্য হল প্রশাসন তাদের পাশে থাকবে। তিনি শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি থেকে অর্জিত জ্ঞান পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

বিকাশ লিমিটেডের এ কে এম মনিরুল করিম ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনে সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রসারের সঙ্গে প্রতারণার নতুন নতুন কৌশলও দেখা দিচ্ছে। তবে সচেতনতা ও সঠিক তথ্য জানার মাধ্যমে এসব প্রতারণার ঝুঁকি অনেকাংশে মোকাবিলা করা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীরা সাইবার নিরাপত্তা, অনলাইন হয়রানি, ডিজিটাল প্রতারণা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। অতিথিরা এসব প্রশ্নের উত্তর দেন এবং নিরাপদ ডিজিটাল আচরণ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
পিরোজপুরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৬ কোটি ৮০ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি-থ্রি পিস-লেহেঙ্গা জব্দ
চমক নিয়ে ঈদে আসছে ‘নসিব’, কক্সবাজারে চলছে শুটিং
মঙ্গলবার লটারির মাধ্যমে ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রার বদলি
পূবাইলে প্লাস্টিকের গোডাউনে আগুন