মানিকগঞ্জে কয়েকটি ইজিপিপিতে অনিয়মের অভিযোগ

মঞ্জুর রহমান, মানিকগঞ্জ
| আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৭, ০৮:২০ | প্রকাশিত : ২৩ মার্চ ২০১৭, ০৮:১৭

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নবগ্রাম ও গড়পাড়া ইউনিয়নে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে (ইজিপিপি) ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনজুর মোহাম্মদ শাহারিয়ার কিছু অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের ডেকে সতর্ক করেছেন।

২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে প্রথম পর্যায়ে বরাদ্দ অতি দরিদ্রদের জন্য ৪০ দিনের কর্মসংস্থান কর্মসূচির কয়েকটি প্রকল্পে সরেজমিন গিয়ে স্থানীয় মানুষের অভিযোগ পেয়েছেন এই প্রতিবেদক।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে দুটি প্রকল্পে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার কাজ বরাদ্দ হয়। দুটি প্রকল্পের একটি অর্ধেক শেষ হলেও আরেকটি এখনো শুরুই করতে পারেননি ওয়ার্র্ড সদস্য হাবিবুর রহমান ওরফে হাবু। এর পেছনে তার অনিয়মের অভিযোগ করছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ রয়েছে, হাবিবুর রহমান শুধু নিজের বাড়ির জন্য ‘নবীনের বাড়ি থেকে মিঠুর বাড়ি’ পর্যন্ত অন্যের মালিকানাধীন জায়গা দখল করে রাস্তা করছেন। তিনি প্রকল্পটি নিয়েছেন তার ছেলে মিঠুর নামে। এই রাস্তা হলে হাবিবুর রহমান ও তার পরিবারের লোকজন ছাড়া আর কেউ উপকৃত হবে না বলে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ। এ কারণে স্থানীয় একটি পরিবার তাদের জমির ওপর বেড়া দিয়ে দিয়েছে। এতে বন্ধ হয়ে গেছে কর্মসূচির কাজ।

একই অভিযোগ করেছেন নবগ্রাম ইউনিয়নের ধলাই গ্রামের এনজিও কর্মী রাজিব। তিনি বলেন,  ‘হাবিবুর রহমান নিজের পরিবারের স্বার্থে নবীনের বাড়ি থেকে মিঠুর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা করছেন। এই রাস্তা হলে অন্য কারো লাভ হবে না বিধায় আমরা আমাদের জায়গার ওপর বেড়া দিয়েছি।’

হাবিবুর রহমানের বেলিরচর এলাকায় আরেকটি প্রকল্পে জটিলতা আরো বেশি। সেখানে প্রভাবশালী এক ব্যক্তিকে সুবিধা দিতে দরিদ্র এক নারীর দুচালা ঘর ভেঙে রাস্তা নেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে বিরাজ করছে  ক্ষোভ। সেখানে কর্মসূচির কাজ বন্ধ রয়েছে।

তবে হাবিবুর রহমানের দাবি, তিনি যাতে কাজ করতে না পারেন সেজন্য প্রতিহিংসায় স্থানীয় কিছু মানুষ তাদের জায়গার ওপর বেড়া দিয়েছেন। এ কারণে তার কাজ সাময়িক বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ধরাই এলাকায় নবীনের বাড়ি থেকে মিঠুর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ হলে শুধু আমার পরিবার নয় এলাকার সব মানুষের উপকার হবে।’

এ ব্যাপারে নবগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাকিব হোসেন ফরহাদ বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে কর্মসংস্থান কর্মসূচির কাজ চলছে। এর মধ্যে ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য হাবিবুর রহমানের ওয়ার্ডে ব্যাপক অনিয়ম দেখা দিয়েছে। অনিয়মের কারণে তার ওয়ার্ডে কাজ বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

এদিকে সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের ৫ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের সমস্যা অন্য রকম। সেখানে রাস্তা নির্মাণের খুশিতে স্থানীয় লোকজন নিজেদের জমির মাটি বিনামূল্যে দিচ্ছেন। কিন্তু ওয়ার্ড সদস্য সলিম মাহমুদ ও দেলোয়ার হোসেন তাদের সাইডে শ্রমিক কম খাটিয়ে কর্মসূচির অর্থ আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ।  

গত শনিবার গড়পাড়া ইউনিয়নের আলী নগর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সলিম মাহমুদের সাইডে ৪২ জন শ্রমিক কাজ করছেন। কিন্তু কাজ করার কথা ৫৩ জন। বাকি শ্রমিকদের ব্যাপারে জানতে চাইলে সলিম মাহমুদ বলেন, ‘হয়তো বাইরে কোথাও গেছে।’ তিনি দাবি করেন, তার প্রকল্পে ৫৩ জন শ্রমিকই কাজ করেন।

অন্যদিকে ২ নম্বর ওয়ার্ডে ৫০ জন শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর কথা থাকলেও কাজ করছেন ৪৩ জন। বাকি শ্রমিকদের চেয়ারম্যান আফসার সরকারের নির্দেশে অন্য প্রকল্পে নেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন।

ইজিপিপিতে এমন নানা অনিয়ম ঘটলেও তা খুঁজে পাননি মানিকগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনজুর হোসেন। অবশ্য কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না তা দেখার দায়িত্ব স্ব স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বলে জানান তিনি। বলেন, ‘এই কর্মসূচিতে আমার যতটুকু প্রজেক্ট দেখার দায়িত্ব আমি দেখেছি, সেখানে কোনো অনিয়ম পাইনি।’

তবে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহারিয়ার জানান, ইজিপিপির কাজ নিয়ে তাদের কাছে কিছু অভিযোগ এসেছে। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছে।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, ‘মানিকগঞ্জের সাত উপজেলাতে এ কর্মসূচির কাজ চলছে। এই প্রকল্প যেন স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন হয়, সে ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। কোনো ওয়ার্ড সদস্যের বিরুদ্ধে প্রজেক্ট নিয়ে অনিয়ম পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মানিকগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের প্রথম পর্যায়ে মানিকগঞ্জের সাতটি উপজেলায় ৫ কোটি ৪২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ এসেছে। এ জেলায় ইজিপিপির আওতায় কার্ডধারী শ্রমিক রয়েছেন ৬ হাজার ৭৮০ জন। এই কাজে নন ওয়েজ কস্ট ৬০ লাখ ৮০ হাজার ৬৬৩ টাকা। প্রকল্প সংখ্যা ১৯১টি। এই কর্মসূচির কাজের অগ্রগতি ৪৬ শতাংশ।

(ঢাকাটাইমস/২২মার্চ/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত