অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদেও টিকে রইল রাজনৈতিক কার্যালয়

মঞ্জুর রহমান, মানিকগঞ্জ
 | প্রকাশিত : ২৩ এপ্রিল ২০১৭, ০৮:০৮

মানিকগঞ্জে সড়ক ও জনপদ বিভাগের জমিতে অবৈধভাবে তোলা টংঘর উচ্ছেদ করেছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদত খোন্দকার। কিন্তু একই জায়গায় অক্ষত রয়ে গেল সরকারি দল আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয়।

বিনা নোটিশে ফুটপাতে তোলা ক্ষুদে ব্যবসায়ীদের টংঘর বুলডোজার দিয়ে উচ্ছেদ করা হলেও আওয়ামী লীগের কার্যালয় রেখে দেওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। মানিকগঞ্জ জেলা হর্কাস সমিতির পক্ষ থেকে উচ্ছেদ করা হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনবার্সনেরও আবেদন করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত ১২ থেকে ১৪ এপ্রিল সড়ক ও জনপদ বিভাগ, পল্লী বিদুৎ ও সদর থানার পুলিশ নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এ সময় বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলেন সড়ক ও জনপদ বিভাগের জমির ওপর নির্মিত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অবৈধ টংঘর। এ সময় ঘর সরিয়ে নেওয়ার জন্য ছিন্নমূল হকার ও ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা সময় চাইলেও ইউএনও তা আমলে নেয়নি।

শনিবার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুই পাশের টংঘরের জায়গাটি এখনো ফাঁকা। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আঞ্চলিক কার্যালয়টি রয়ে গেছে।

মানিকগঞ্জ জেলা হকার্স সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ইউএনও সাহেবের কাছে দোকানপাট সরিয়ে নিতে এক দিন সময় চাইলেও তিনি তা দেননি। এখন আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে পুনর্বাসনের জন্য আবেদন করেছি।’

ছিন্নমূল এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘উচ্ছেদের নামে আমাগো মত গরিব মানুষের ঘর ভাঙলেও আওয়ামী লীগের অফিস রয়া গেছে। ইউএনও সাব ওইটা ভাঙতে পারলেন না?’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদত খোন্দকার ঢাকাইমসকে বলেন, ‘নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে রেখে মূলত আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়টি সে সময় ভাঙা হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘সড়ক ও জনপদ বিভাগের জমির ওপর অবৈধ গড়ে তোলা ওই  কার্যালয়টি ভাঙতে এক সপ্তাহ সময় নিয়েছিলাম। কিন্তু পারিবারিক কাজে ব্যস্ত থাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালাতে পারিনি।’

চলতি সপ্তাহের মধ্যে অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগের অবৈধ কার্যলয়টি উচ্ছেদ করা হবে বলেও জানান ইউএনও।

জমির মালিক মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মহিবুল হক বলেন, ‘উচ্ছেদের প্রথম দিন ১২ তারিখ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদত খোন্দকার আমাদের মৌখিক অনুমতি নিয়ে অভিযান চালিয়ে কিছু দোকানপাট ভেঙে দিয়েছেন। কিন্তু দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন আমাদের সাথে কোনো ধরনের কথা  না বলেই তিনি উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। এতে কিছু টংঘর ভাঙলেও কিছু পাকা ঘর রয়ে গেছে। এটা ঠিক হয়নি।’

তবে সড়ক ও জনপদ বিভাগের অনুমতি না নিয়ে অভিযান চালানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও দাবি করেন, এই অভিযোগ সত্য নয়। তিনি বলেন, ‘আমি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যে কয়দিন উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছি, সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তারা আমার সঙ্গে ছিল।’

ঢাকাটাইমস/২৩এপ্রিল/প্রতিনিধি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত