কুড়িগ্রামে শিলাবৃষ্টি, পাট চাষিদের হাহাকার

সাইফুর রহমান শামীম,কুড়িগ্রাম
 | প্রকাশিত : ০৬ মে ২০১৭, ১৩:০২

বোরো ক্ষেতে নেক ব্লাস্টের পর এবার কুড়িগ্রামে শিলাবৃষ্টিতে পাট ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শিলের আঘাতে পাট ক্ষেতের সব পাট গাছের আগা ছিঁড়ে যাওয়ায় হাহাকার পড়েছে কৃষকের মাঝে। শিলে ক্ষতিগ্রস্ত এসব ক্ষেত থেকে খড়ি ছাড়া আর কোন পাট পাওয়া যাবে না। এ পরিস্থিতিতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন পাট চাষিরা।

চলতি মৌসুমে জেলায় ১৮ হাজার ৬শ হেক্ট্রর জমিতে পাটের আবাদ হলেও কি পরিমাণ জমির পাট শিলা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে হিসাব জানাতে পারেনি কৃষি বিভাগ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলা সদরের চর সুভারকুটি, চর কুড়িগ্রাম, আরাজি পলাশবাড়ী, খামার হলোখানাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে শিলা বৃষ্টিতে ধান পাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কৃষকরা জানায়, ধানের চেয়ে পাটের ক্ষতি বেশি হয়েছে।

জেলা সদরের চর কুড়িগ্রামের কৃষক মাইদুল ইসলাম জানান, বুধবার রাতে ও বৃহস্পতিবার সকালের শিলা-বৃষ্টিতে তার নিজেরসহ এলাকার সকল পাট গাছের আগা ছিঁড়ে গেছে। পাট গাছের আগা ছিঁড়ে গেলে সে ক্ষেত থেকে আর পাট পাওয়া যায় না। এ অবস্থায় খুব দুঃচিন্তায় পড়েছি।

একই এলাকার খোরশেদ আলী ও তমিজ উদ্দিন জানান, কিছু ধান ক্ষেত নেক ব্লাস্টে নষ্ট হয়েছে। তবু আশা ছিল পাট নিয়ে। সে পাট ক্ষেতও শিলা বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেল। এখন কি খেয়ে বাঁচব।

এ ছাড়াও গত দুদিনে জেলার যেসব এলাকায় শিলা বৃষ্টি হয়েছে ওইসব এলাকার পাট গাছের আগা ছিঁড়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষক। এসব পাট ক্ষেতে খড়ি ছাড়া কোন ধরনের ফলন পাওয়া যাবে না।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মকবুল হোসেন শিলা বৃষ্টিতে পাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করে বলেন, আগা ছিঁড়ে যাওয়া পাট গাছ থেকে কোন ফলন পাওয়া যাবে না- এটা ঠিক কথা। তবে ওইসব ক্ষেতে অন্য কোন নতুন ফসল আবাদ করা যেতে পারে। প্রকৃত পক্ষে জেলায় কি পরিমাণ পাট ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে তার হিসাব নিরুপনের কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

তবে কৃষকরা বলছেন, এই মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্ত পাট ক্ষেতে নতুন করে অন্য কোন ফসল আবাদ করা তাদের জন্য দুরুহ ব্যাপার। এ অবস্থায় সরকারি সহায়তা কামনা করছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

(ঢাকাটাইমস/৬মে/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত