পাহাড়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে গবেষণা জরুরি

রাঙামাটি প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৯ মে ২০১৭, ২০:০৬

পার্বত্য চট্টগ্রামে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন পার্বত্য জেলায় জেলা ভিত্তিক কৃষি গবেষণা কাজ বৃদ্ধি করতে হবে। সেই সঙ্গে পার্বত্য এলাকায় চাষাবাদের জন্য উপযোগী নতুন বীজ উদ্ভাবন করতে হবে।

সোমবার রাঙামাটির পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন কৃষিবিদরা।

কর্মশালায় উদ্ভাবিত ডাল, তেলবীজ এবং ডানা জাতীয় ফসলের সম্প্রসারণযোগ্য জাত সমূহের পরিচিতি, চাষাবাদ পদ্ধতি এবং নতুন শস্য অর্ন্তভুক্তিকরণ বিষয়ে আলোচনা হয়।

কৃষিবিদরা আরও বলেন, কৃষক-কৃষিবিদ- কৃষি সম্প্রসারণ এক সাথে মাঠে কাজ করতে হবে। তবেই পার্বত্যাঞ্চলে কৃষি আরো সম্মৃদ্ধি হবে। জুম চাষের জন্য যে বীজ বপন করলে জুমিয়ারা লাভবান হবে সেই ধরনের বীজ উদ্ভাবন করার তাগাদা দেন তিন পার্বত্য (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি,বান্দরবান) জেলার কৃষিবিদরা।

কৃষিবিদরা বলেন, ভৌগলিক কারণে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ির মাটি এক নয়। বান্দরবানে উঁচু পাহাড়, রাঙামাটিতে পাহাড়-হ্রদ, খাগড়াছড়িতে কম পাহাড় বিদ্যমান। তাই তিন জেলায় একই ধরনের ফসল চাষাবাদ হয় না। তিন জেলায় জন্য আলাদা গবেষণার কাজ করা দরকার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএই রাঙামাটি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক প্রণব ভট্টাচার্য্য বলেন, কৃষক-কৃষিবিদ- কৃষি সম্প্রসারণ এক সাথে মাঠে কাজ করা হলে পার্বত্যাঞ্চলে কৃষি আরো সম্মৃদ্ধি হবে।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণের উপ পরিচালক তরুণ ভট্টাচার্য বলেন, গবেষণা শুধু কর্তনের সময়ে মাঠে গেলে হবে না। পুরো প্রক্রিয়ার সাথে জাড়িত থাকতে হবে। কৃষকদের সমস্যা সমাধানে কাজ করতে হবে।  কাপ্তাই হ্রদের পানি দেরিতে কমার কারণে কৃষকরা বোরো আবাদ করতে পারে না। তাই এই সময়ে কোনো ধানের জাত রোপন করলে কৃষকরা লাভবান হবে সেই ধরনের বীজ উদ্ভাবন করতে হবে। তবে কৃষকরা লাভবান হবে। যে বীজ বপন করে কৃষকরা লাভবান হতে পারে না সেই বীজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণের উপ পরিচালক আলতাফ হোসেন বলেন, রাঙামাটিতে হ্রদ-পাহাড় আছে কিন্তু বান্দরবানে শুধু পাহাড় আর পাহাড়। সে অনুযায়ী বীজ এবং গবেষণা করতে হবে। তবে কৃষকরা উপকৃত হবে। কৃষিতে সম্মৃদ্ধ হবে।

তিনি বলেন, দেখা যায় তিন পার্বত্য জেলায় আমের ক্ষেত্রে একই সময়ে মুকুল আসে না। ফলে একই সময়ে এগুলো সংগ্রহ করা যায় না।

বিনার মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আব্দুল মালেকের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি কৃষি ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ সুদেন্দু শেখর মালাকার, কৃষিবিদ তপন কুমার পাল, কৃষিবিদ পবন কুমার চাকমা প্রমুখ।

(ঢাকাটাইমস/২৯মে/প্রতিনিধি/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত