ইফতারি নিয়ে সুবিধাবঞ্চিতদের খোঁজে…

ইমতিয়াজ আহমেদ, শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
| আপডেট : ০৫ জুন ২০১৭, ২২:৩৮ | প্রকাশিত : ০৫ জুন ২০১৭, ২২:৩১

রোজার মাসে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ইফতার বা ঈদ সামগ্রী বিতরণের দৃশ্য চোখে পড়ে অহরহই। তবে তার বেশিরভাগই শহরকেন্দ্রিক। গ্রামের তৃণমূল পর্যায়ের অসহায় মানুষের খোঁজ খুব একটা রাখে না কেউ। আবার গ্রামে বাস করা অনেকেই আছেন, যারা সমাজের বিত্তশালীদের কাছে কিছু চাইতে লজ্জা পান। ঘরে কিছু না থাকলেও নিজের অসহায়ত্ব বাইরে প্রকাশ করেন না। দারিদ্রতা নিয়ে ভেতরে ভেতরে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। গ্রামের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এমন মানুষের সংখ্যা একেবারেই কম না। এমন সুবিধাবঞ্চিত, হতদরিদ্র পরিবারের ঘরে ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার চিত্র দেখা গেছে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার একটি গ্রামে।

কয়েকজন স্বপ্নচারী যুবক ইফতার সামগ্রী নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন দরিদ্র মানুষের ঘরে ঘরে। নীরবে পৌঁছে দিয়ে আসছেন নিজেদের উদ্যোগে স্বল্প পরিসরের এই ইফতার সামগ্রী।

জানা গেছে, উপজেলার উৎরাইল ও দত্তপাড়া এলাকার কতিপয় যুবক নিজেদের উদ্যোগে হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দিতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। ইফতারের সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ কেজি করে ছোলা, ডাল, চিনি, চিড়া, খেঁজুর ও কিছু ইসবগুলের ভূষি। এসব সামগ্রী এক করে মোটরসাইকেল ও ভ্যানযোগে সুবিধাবঞ্চিতদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন তারা।

ওই যুবকরা জানান, আকস্মিক ইফতার নিয়ে হতদরিদ্র পরিবারের কাছে গেলে তারা হকচকিয়ে যায়। এসব ইফতার নেয়ার সময় আবেগে অনেকের চোখে পানিও এসে যায়।

তাদের এমন উদ্যোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ফররুখ আহমেদ নামে এক যুবক বলেন, ‘গ্রামে এমনও অনেক পরিবার আছে, যারা ইফতারে শুধু পানি আর বাসি ভাত খায়। ইফতার বলতে যে খাবারগুলো আমরা খেয়ে থাকি তা তারা পায় না। আবার ওইসব পরিবারের অনেক পুরুষ এলাকার মসজিদে গিয়েও ইফতার করতে পারে। অথচ পরিবারের বৃদ্ধ মহিলাদের ভাগ্যে তেমনটা ভালো কিছু জোটে না। আমার আশপাশেই অনেক পরিবারে এই চিত্র আমি দেখছি। প্রকৃত দরিদ্ররা যেন বঞ্চিত না হয়, সেজন্যই তাদের বাড়িতে ছুটে আসা।’

কথা প্রসঙ্গে সহিদুজ্জামান সোহেল বলেন,‘আমরা এলাকার বেশ কয়েকজন যুবক সিদ্ধান্ত নেই সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য কিছু করার। আমরা বিত্তশালী নই যে অনেক বড় কিছু করতে পারবো। এলাকার সম-মানসিকতার ছোটবড় ভাই-ব্রাদার মিলে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে এই ইফতার সামগ্রী বিতরণ করলাম। আমাদের লক্ষ্য সমাজের সুবিধা বঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানো। এজন্য আমরা একটা ফান্ড গঠন করবো। যাতে করে দরিদ্র মানুষের সেবায় কাজ করা সহজ হয়।

শামীম হোসেন নামে আরেক যুবক বলেন, ‘আমরা সমাজের হতদরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। শুধু ইফতার বিতরণই না। অর্থাভাবে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম দরিদ্র শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় সহযোগিতাসহ যে কোনো দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা নিয়ে আমরা কাজ করবো।

শিবচর উপজেলার উৎরাইল গ্রামের ছোট্ট একটি বাজারের নাম নয়াবাজার। আড়িয়াল খাঁ নদী সংলগ্ন এ বাজারটি এলাকার মানুষের যেন এক মিলনমেলা। উৎরাইল এবং আশপাশের গ্রামের কতিপয় যুবক ছাত্রাবস্থায় গড়ে তুলেছিলেন একটি পাঠাগার।

এই নয়াবাজারের একপাশে ছোট্ট একটি ঘর ভাড়া নিয়ে ২০০৭ সালে নিজস্বভাবে চাঁদা দিয়ে যাত্রা শুরু হয় তাদের পাঠাগারের। সেই যুবকেরাই বর্তমানে কেউ চাকরি, কেউ ব্যবসায় আবার কেউ বা রয়েছেন প্রবাসে। তাদের সাথে যোগ দিয়েছেন আরো বেশ ক’জন।

জানা গেছে, এদেরই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হতদরিদ্র, সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য এই ইফতার সামগ্রী পৌছে দেয়ার কাজ চলছে। আসছে ঈদেও তারা ছুটে যাবেন হতদরিদ্রদের কাছে। যার যার সাধ্যমত বাড়িয়ে দেবেন সহযোগিতার হাত। যাতে করে একটু হলেও হাসি ফুটে দরিদ্র মানুষের মুখে এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।

ঢাকাটাইমস/৫জুন/প্রতিনিধি/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত