লংগদু আগুন: মানবাধিকার কমিশনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন

হিমেল চাকমা, লংগদু থেকে ফিরে
 | প্রকাশিত : ০৮ জুন ২০১৭, ১৮:০৮

রাঙ্গামাটির লংগদুতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত আদিবাসী গ্রামগুলো পরিদর্শন করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত কমিটি। তারা এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের সঙ্গেও কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার সকালে মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক বাঞ্ছিতা চাকমার নেতৃত্বে কমিশনের ঢাকা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদুর রহমান এবং  রাঙ্গামাটি কার্যালয়ের পরিচালক গাজী সালাউদ্দিন যান ঘটনাস্থলে।

এই কমিটিকে চার কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। গাজী সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সবার সাথে কথা বলেছি। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেব।’

গত বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়ি সদর থানার চার মাইল এলাকায়  সড়কের পাশে নুরুল ইসলামের মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন সকালে শোক মিছিল থেকে তিনটিলা পাড়ায় আদিবাসীদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এতে ২২৪টি বাড়ি ও দোকান পুড়ে যায়। লংগদু ইউপি চেয়ারম্যানের ঘরের ভেতরে আগুনে পুড়ে মারা যায় গুণাবালা নামে এক বৃদ্ধা।

ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা

এই ঘটনায় বিচারের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। এ জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করছে উপজেলা প্রশাসন।  

স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত না করে অফিসে বসে এই তালিকা করেছে উপজেলা প্রশাসন। এই তালিকাটি গত ৪ জুন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা পাহাড়িরা। তিনটিলা গ্রামের জোসেফ চাকমা বলেন, ‘আমার পোড়া ঘরের স্থাপনা দেখলে যে কেউ বুঝতে পারবে আমার কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু ক্ষতি ধরা হয়েছে মাত্র সাড়ে তিন লাখ। এটি কোন ধরনের?’।

বিভা চাকমা বলেন, ‘আমাদের ঘর না দেখে তালিকা তৈরি করে অনুমান করে ক্ষতির তালিকা করা হয়েছে। আমার শুধু পুড়ে যাওয়া ফ্রিজ, আসবাব, ইলেক্ট্রনিক সরঞ্জাম হিসাব করলে তিন লাখ টাকার বেশি হবে।’

তদন্ত ছাড়া ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরির কথা স্বীকার করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৈয়ুব বলেন, তারা অনুমান করে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করেছেন। এটি প্রাথমিক। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন তালিকা করছি তখন মানুষের সাথে কথা বলার কোন সুযোগ ছিল না। এটি তাৎক্ষণিকভাবে করেছি। আগামীতে আরো একটি করা হবে।’

আটারক ছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমা বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসন যে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করেছে এটি সম্পূর্ণ ভুয়া। একটি গোষ্ঠীর কথা শুনে আমাদের হেয় করতে এই লজ্জাজনক তালিকা করেছে প্রশাসন।...এই তালিকা করার আগে আমাদের কারোর সাথে কথা বলা হয়নি। ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা হয়নি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তোজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক তালিকাটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে আরো ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করা হবে।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর বলেন, ‘যার যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তার হিসাব করে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বসান করা হবে। এটি  পাঁচ লাখ এক কোটি হতে পারে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের চুড়ান্ত তালিকা করে তারে পুনর্বাসন করতে হবে।’

ঢাকাটাইমস/০৮জুন/প্রতিনিধি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত