৩০ বছরে তীব্র পানির সংকটে ৫৭০ কোটি মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৮, ২০:১৯ | প্রকাশিত : ১৯ মার্চ ২০১৮, ২০:১২

জলবায়ু পরিবর্তন, চাহিদা বৃদ্ধি এবং দূষিত পানি সরবরাহের কারণে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে ৫৭০ কোটি মানুষ তীব্র পানি সংকটে পড়বে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ।

২০১৮ সালের বিশ্ব পানি উন্নয়ন বিষয় জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি বছর অন্তত ৩৬০ কোটি মানুষ এক মাস পানির সংকটে ভুগে। এই সংখ্যা ২০৫০ সালে ৫৭০ কোটিতে দাঁড়াবে বলে প্রতিবেদনটিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে।

সোমবার ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় বিশ্ব পানি সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনটি উপস্থাপনের সময় ইউনেসকোর পরিচালক অদ্রে আজোলে বলেন, ‘আমরা যদি কিছুই না করি, তাহলে ২০৫০ সালের মধ্যে ৫০০ কোটির বেশি মানুষ পানির তীব্র সংকটের মুখোমুখি হবে।’

‘উন্নত পানি ব্যবস্থাপনার জন্য প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদনে কিছু সমাধান সুপারিশ করা হয়েছে। পানি সংক্রান্ত সমস্যা নিরসনে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ এবং অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শতাব্দীতে ছয়টি কারণে বিশ্বব্যাপী পানির ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি বছর এক শতাংশ হারে এই বৃদ্ধি অব্যাহত আছে।

অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং অভিযোজনের ধরনে পরিবর্তনের কারণে পানির ব্যবহার বেশি বাড়ছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হচ্ছে, উন্নয়নশীল এবং দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশগুলোতে পানির চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক পানি চক্র তীব্রতর হচ্ছে। আদ্র অঞ্চলগুলোতে পানির প্রবাহ আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং শুষ্ক অঞ্চলগুলো আরো শুষ্ক হচ্ছে।  

ইকোসিস্টেম

প্রতিবেদনটির প্রধান সম্পাদক রিচার্ড কনর বলেছেন, কথিত ‘গ্রে’ বা মানুষের তৈরি পানির অবকাঠামো যেমন- জলাধার, সেচ খাল, পরিশোধন কেন্দ্র এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়।

জাতিসংঘ যুক্তি দেখায়, পলি ভরাট, পরিবেশগত উদ্বেগ ও প্রতিবন্ধকতার কারণে নতুন করে সংরক্ষণাগার তৈরি করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া বেশিরভাগ উন্নত দেশের স্বল্প ব্যয় ও সহজলভ্য স্থানগুলো ইতোমধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে।

‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে অধিক ইকোসিস্টেমের কারণে পানির সংকট তৈরি করে। যেমন- বাঁধ নির্মাণের চেয়ে প্রাকৃতিক জলাধার, পানির আদ্রতা উন্নয়নে, ভূগর্ভস্থ পানির পুনরায় সংরক্ষণ আরো টেকসই এবং সাশ্রয়ী হতে পারে।'

রিচার্ড কনর বলেন, ‘পানি চক্রের বিভিন্ন কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণে প্রকৃতি অসাধারণ এবং মৌলিক ভূমিকা পালন করে।’

প্রকৃতি ভিত্তিক সমাধান ‘নিয়ন্ত্রক, পরিষ্কারক এবং পানি সরবরাহের ভূমিকা’ পালন করতে সক্ষম বলে কনর বলেন।  

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সবুজায়ন’ ইতোমধ্যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

(ঢাকাটাইমস/১৯মার্চ/এসআই)

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত