কাশ্মীরের অবস্থা দেখতে যাচ্ছেন ভারতের প্রধান বিচারপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৬:২১

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহর মুক্তির প্রশ্নে কেন্দ্রীয় সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনকে নোটিশ পাঠিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীম কোর্ট। পাশাপাশি কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কাশ্মীরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। কাশ্মীরের পরিস্থিতি অবিলম্বে স্বাভাবিক করে তোলারও আদেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।

গত ৫ আগস্ট ভারতের সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা বাতিল করে কাশ্মীরের ‘বিশেষ মর্যাদা’র সুবিধা বাতিল করা হয়। তারপর প্রদেশটির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাকে গ্রহবন্দিসহ কারফিউ জারি করা হয়। সব গণমাধ্যম নিষিদ্ধসহ সেখানকার নাগরিকদের নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। যদিও ভারত সরকার নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করছে। 

রাজ্যসভার আইনপ্রণেতা এমডিএমকে-এর সাধারণ সম্পাদক ভাইকো প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহর মুক্তির দাবিতে সুপ্রীম কোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করেছিলেন।

মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে শুনানি হয়। অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এসএ বোবদে এবং এসএ নাজির। আদালত ভাইকোর আইনজীবীর কাছে জানতে চান, ফারুক আবদুল্লাকে আটক করে হেফাজতে রাখা হয়েছে কিনা?

এ প্রশ্নের উত্তরে আইনজীবী জানান,‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজেই বলেছিলেন যে ফারুক আবদুল্লাকে আটক করা হয়নি। কিন্তু তিনি এখন কোথায় তা আমরা জানি না। তাছাড়া, আবদুল্লাকে ভারতের চেন্নাইয়ে আয়োজিত একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার অনুমতিও দেয়া হচ্ছে না।

এর আগে জম্মু-কাশ্মীরের ন্যাশনাল কনফারেন্স প্রধান ফারুক আবদুল্লা নিজের ইচ্ছায় গৃহবন্দি রয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দাবি প্রত্যাখ্যান করে আবদুল্লা বলেন,‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী যা বলছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি একেবারে আটকে রয়েছি। আমার বাড়ির সামনে একজন ডিএসপি-কে রাখা হয়েছে। কয়েক মিটার দূরেই আমার মেয়ে াকে। নিজের মেয়ের সঙ্গে পর্যন্ত দেখা করতে পারছি না। মেয়ের বাড়িতেও বাইরে থেকে তালা লাগানো।’

অন্যদিকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সুপ্রীম কোর্টকে জানানো হয়, কাশ্মিরে দূরদর্শনের মতো টিভি চ্যানেল, এফএম চলছে। সংরক্ষিত এলাকায় যাওয়ার জন্য সাংবাদিকদের পাস দেওয়া হচ্ছে। সরকার সব রকমভাবে সাহায্য করছে। কাশ্মিরের সব খবরের কাগজপত্র চালু রয়েছ। সেখানকার ৮৮ শতাংশ ানার অন্তর্গত এলাকাগুলো থেকে কড়াকড়ি তুলে নেওয়া হয়েছে।

শুনানির পর বিচারপতিগণ ভারতের অ্যাটর্নি জেনারেল কেকে ভেনুগোপালকে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা অটুট রেখে উপত্যকাকে স্বাভাবিক করতে সচেষ্ট হোক কেন্দ্রীয় সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন। প্রধান বিচারপতি বলেন,‘মানুষ যদি হাইকোর্টে যেতে না পারে তা খুব গুরুতর বিষয়। আমি নিজে শ্রীনগরে যাব।’ এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকাটাইমস/১৬সেপ্টেম্বর/আরআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :