মাস্ক না পরায় চাকরিজীবীকে এক ঘণ্টা পেটাল পুলিশ!

নড়াইল প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
  প্রকাশিত : ২৮ মার্চ ২০২০, ২১:০১| আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২০, ২১:০৬
অ- অ+

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মাস্ক না পরায় নড়াইলে এক চাকরিজীবীকে পুলিশ পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরিকুল ইসলামকে (৩৫) নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে নড়াইল সদর উপজেলার শেখহাটি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। তবে বিষয়টি শনিবার জানাজানি হয়। তরিকুল শেখহাটি গ্রামের অলিয়ার রহমান সরদারের ছেলে।

ভুক্তভোগী তরিকুল জানান, তিনি ঢাকার উত্তরায় একটি কোম্পানির রিজিওন্যাল ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করেন। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে গেলে গত ২৫ মার্চ ঢাকা থেকে বাড়িতে চলে আসেন তিনি। পরেরদিন সকালে বাড়ির পাশে শেখহাটি বাজারে বের হন। তবে তরিকুল মাস্ক নিতে ভুলে যান। এ সময় তরিকুলের কাছে মাস্ক না পরার কারণ জানতে চেয়ে সাদা পোশাকে শেখহাটি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই এনামুল হক বলেন, ‘তুই করোনাভাইরাস ছাড়াতে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছিস’- এসব বলেই এসআই এনামুল তরিকুলকে ধাক্কা দিয়ে বাজারে কুল বরই বিক্রেতার ঝুঁড়ির ওপর ফেলে দেয়। তরিকুল পুলিশ কর্মকর্তাকে জানান, তিনি বাড়ি থেকে মাস্ক আনতে ভুলে গেছেন। তবুও তরিকুলকে জেরা করেন এসআই এনামুল। এক পর্যায়ে এনামুলসহ তার সঙ্গে থাকা অন্য পুলিশ সদস্যরা তরিকুলকে টেনে-হিঁচড়ে, কিল-ঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে দেন। পুলিশের মারপিটে তরিকুল হাত, পা, মুখ, মাথা, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

পুলিশের মারের দৃশ্য দেখে বাজারের লোকজন এগিয়ে এলেও তরিকুলকে পুলিশ সদস্যরা মারধর করতে থাকেন। পরে তাকে শেখহাটি ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং টাকার বিনিময়ে তরিকুলকে ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাব দেন এসআই এনামুল। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় ঘটনার দিন দুপুরে তরিকুলকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে নসিমনে করে সদর থানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়।

আহত তরিকুলের ছোট ভাই রায়হান বলেন, সদর থানায় আসার পর ওসি সাহেব বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন এবং ভাইকে ছেড়ে দেন। এরপর ভাইকে নিয়ে সদর হাসপাতালে গেলেও চিকিৎসাসেবা নিতে বাধা দেন শেখহাটি পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলমগীরসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা। এক পর্যায়ে তরিকুলকে হাসপাতাল থেকে জোর করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া। বাড়িতে যাওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে তরিকুলকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে শেখহাটি বাজার কমিটির সভাপতি মনিরুল ইসলাম সরদার বলেন, ছয় থেকে সাতজন পুলিশ তরিকুলকে প্রায় একঘণ্টা ধরে মারধর করেছে। বাজার কমিটির লোকজন পুলিশকে অনুরোধ করলেও কোনো কাজ হয়নি।

এদিকে অভিযুক্ত শেখহাটি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এনামুল হক বলেন, তরিকুলের মাস্ক পরা ছিল না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পুলিশের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। তবে তরিকুলকে মারধর করে টাকা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেন পুলিশ কর্মকর্তা এনামুল। তরিকুলকে চিকিৎসা দিতেও বাধা দেয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি প্রাথমিকভাবে জেনেছি। বিস্তারিত খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

(ঢাকাটাইমস/২৮মার্চ/কেএম)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

মন্তব্য করুন

শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
ছাত্রদল নেতা হামিম-জ্যোতিকে বহিষ্কার
বিভিন্ন স্লোগানে মহিলা বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ বিআরটিসির
ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়
বালিয়াকান্দিতে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা