সেচ মৌসুমে তেল সংকট, দুশ্চিন্তায় প্রান্তিক কৃষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৬ মার্চ ২০২৬, ১৫:২৯
অ- অ+

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে স্থানীয় জ্বালানি তেলের বাজারেও। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে গেছে বেশ কিছু জ্বালানি তেলের দোকান। এতে বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও সাধারণ ভোক্তারা।

শুক্রবার (০৬ মার্চ) সরেজমিনে হরিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই কৃষকেরা তেলের খোঁজে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরছেন। অনেককে খালি ড্রাম হাতে ঘুরতে দেখা গেছে।

কৃষিপ্রধান এই উপজেলার অধিকাংশ কৃষক সেচের কাজে ডিজেলনির্ভর সেচযন্ত্র ব্যবহার করেন। ফলে হঠাৎ তেলের সংকট দেখা দেওয়ায় কৃষিকাজ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

স্থানীয়রা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-আমেরিকা ও ইরানের চলমান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার আগেই স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও মজুতদার কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেলের দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

খুচরা পর্যায়ে বোতলজাত করে তেল বিক্রির দোকানগুলোতেও উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানেও এখন অবৈধভাবে ড্রামজাত করে তেল মজুত করা হচ্ছে। এতে বিস্ফোরক আইন, ১৮৮৪-এর তোয়াক্কা করা হচ্ছে না, যা বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি করছে।

উপজেলার গালা ইউনিয়নের ঝিটকা এলাকার মেসার্স ওয়াজিহা ট্রেডার্সের দোকানে তেল নিতে এসে ফিরে যান মোটরসাইকেল চালক সামসুল হক মিলন। তিনি বলেন, গাড়িতে তেল নেই। তেল নিতে এসে দেখি দোকান বন্ধ। এখন কীভাবে চলবো বুঝতে পারছি না।

বাল্লা ইউনিয়নের ভাদিয়াখোলা গ্রামের কৃষক কাশেদ আলী বলেন, ডিজেল নিতে এসেছিলাম। দোকান বন্ধ থাকায় ফিরে যেতে হচ্ছে। ডিজেল ছাড়া সেচ দিতে পারবো না। পানি দিতে না পারলে ধানের চারা নষ্ট হয়ে যাবে।

ঝিটকা এলাকার মেসার্স ওয়াজিহা ট্রেডার্সের মালিক মো. সুজন মিয়া বলেন, আমার দোকানেও আধা লিটার তেলও নেই। গতকাল তেলের গাড়ি আসার কথা ছিল, কিন্তু আসেনি। হয়তো রবি বা সোমবারের আগে আর গাড়ি আসবেনা।

এদিকে ভাদিয়াখোলা এলাকার মেসার্স সনিয়া পেট্রোলিয়াম হাউজের মালিক মো. রফিকের দোকান বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেল মজুত করলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
বরগুনায় ডাকবাংলো থেকে মা ও দুই কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার
ইসলামী ব্যাংক উদ্ধারে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা মাঠে নামতে প্রস্তুত: জামায়াত আমির
জামিনে কারামুক্ত হলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী
মেট্রোরেল চলাচলের সময় আরও বাড়ছে
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা