পাত্রী দেখতে যাওয়ার পথে অটোরিকশাচালক অপহরণ, র্যাবের অভিযানে উদ্ধার; গ্রেপ্তার ৪

দ্বিতীয় বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে যাওয়ার পথে অপহরণের শিকার হন এক অটোরিকশাচালক। তাকে আটকে রেখে পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি চক্র। তবে পরিবারের কাছ থেকে ৪৪ হাজার টাকা আদায় করার পরও তাকে আটকে রাখা হয়। পরে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব)-১০-এর অভিযানে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন–মো. কুদ্দুস মিয়া (৩৮), মো. জুয়েল রানা ওরফে কুত্তা জুয়েল (৪০), মো. রাকিব হাওলাদার (২৬) এবং মো. অপু মীর ওরফে বায়জিদ (৩৫)।
মঙ্গলবার বেলা ১১টায় কেরানীগঞ্জ র্যাব-১০ এর সদরদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নটির ল-অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোনালী সেন।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী মো. সুন্দর আলী (৪৬) দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চর কুন্দলিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় অটোরিকশাচালক। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ের উদ্দেশ্যে গত রবিবার বিকালে মেয়ে দেখতে বের হন। পথে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ধর্মশুর এলাকায় পৌঁছালে কুদ্দুসের নেতৃত্বে চারজন তার অটোরিকশার গতিরোধ করে।
এরপর তাকে মারধর করে জোরপূর্বক অন্য একটি অটোরিকশায় তুলে রামেরকান্দা এলাকার একটি বালুর মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অপহরণকারীরা তাকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা পাঠাতে চাপ দেয়।
পরে তাকে গ্রেপ্তারকৃত রাকিবের ভাড়া বাসায় নিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে নগদের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা এবং পরে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করে আরও ৩৯ হাজার টাকা পাঠান। তবে টাকা পাওয়ার পরও অপহরণকারীরা সুন্দর আলীকে মুক্তি দেয়নি; বরং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আরও টাকা দাবি করতে থাকে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বজন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে র্যাব-১০-এর কাছে সহায়তা চান। অভিযোগের পর র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাকিবের ভাড়া বাসা থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় সুন্দর আলীকে উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার কুদ্দুসের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনের মামলাসহ চারটি, জুয়েলের বিরুদ্ধে পাঁচটি মাদক মামলা, রাকিবের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির একটি এবং অপু মীরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও নারী-শিশু নির্যাতনের মোট চারটি মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































