ইরানে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা: একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণ; মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। টানা দশম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে দেশটির একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। খবর আলজাজিরা’র।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের মধ্যে ইরানের সিরিক, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ ও ইসফাহান এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব বিস্ফোরণে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।
বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে জানানো হয়, সোমবার দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের সিরিক শহরের কাছে কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, প্রদেশটির পূর্বাঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও সুনির্দিষ্ট স্থান তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে সংস্থাটি আরও জানায়, বিস্ফোরণের শব্দ সমুদ্রের দিক থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা দুর্বল করতে ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে আইআরজিসি দাবি করেছে, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা লক্ষ্য করে তারা ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তবে এ দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা কুয়েতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে সোমবার হরমুজ প্রণালিতে গ্রিসের মালিকানাধীন দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে। একই দিনে যুক্তরাজ্য মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানায়, ওমানের বন্দরনগরী লিমাহ উপকূলের কাছেও একটি তেলবাহী জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।
সর্বশেষ হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, মার্কিন সেনাসদস্যদের ওপর ইরানের যেকোনো হামলার জবাব ‘বহুগুণ বেশি’ শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং একজন নিখোঁজ হন। একই সময়ে উত্তর ইরাকে আরও একজন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ ঘটনার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
এদিকে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নতুন করে অবরোধ ঘোষণার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এর ফলে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে এবং দীর্ঘদিনের তুলনামূলক শান্ত ইয়েমেন সংঘাত আবারও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
(ঢাকাটাইমস/২১ জুলাই/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































