হাজারো প্রাণের বিনিময়ে গণতন্ত্রের ধারায় ফিরেছে বাংলাদেশ: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৬ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৭
অ- অ+

হাজারো মানুষের প্রাণের বিনিময়ে গণতন্ত্রের ধারায় ফিরেছে বাংলাদেশ বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, সকল শহীদের আকাঙ্ক্ষায় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করতে হলে, আমাদের জ্ঞান-বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে আরও সমৃদ্ধ হতে হবে। অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন করতে হবে। গড়ে তুলতে হবে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ।

চাষিদের পাট চাষের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আপনারা উন্নত প্রযুক্তির উচ্চ ফলনশীল চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করুন।

উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিত্য নতুন আধুনিক মানসম্মত ও ব্যবহার উপযোগী স্বাস্থ্য পণ্য উদ্ভাবনে এগিয়ে আসুন। অল্পমূল্যে পাটের ব্যাগ তৈরি ও বিপণন করুন। সৃজনশীল তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান থাকবে, স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে মেড ইন বাংলাদেশ ব্যান্ডিং ও বৈশ্বিক ইকমার্স প্লাটফর্মে যুক্ত হয়ে নতুন উন্মোচন করুন।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পাট দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

২০১৭ সাল থেকে প্রতিবছর ৬ মার্চ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয়ভাবে পাট দিবস পালিত হয়ে আসছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘পাটশিল্প গড়ে তুলুন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন’।

দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সারাদেশে নানান কর্মসূচি এবং রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে ১৪ মার্চ পর্যন্ত ৯ দিনব্যাপী পাট ও বহুমুখী পাটপণ্যের মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যানার, ফেস্টুন দেখা গেছে।

পাট দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, পাট বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। সোনালি আঁশের হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। কয়েক বছর ধরে পাট ও পাটপণ্যের সন্তোষজনক রপ্তানি চিত্র তুলে ধরেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার কাজ করছে। বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন মিলগুলো দীর্ঘমেয়াদি ইজারায় বেসরকারি খাতে চালু রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে ইজারাকৃত ৯টি মিলে প্রায় সাত হাজার ২০০ শ্রমিক কাজ করছেন। কাঁচা পাট রপ্তানি তুলনামূলকভাবে কম লাভজনক। দীর্ঘদিন ধরে কাঁচাপাট রপ্তানির কারণে দেশীয় শিল্প কাঁচামাল সংকটে পড়ে। অন্যদিকে ভারতসহ কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের কাঁচা পাট ব্যবহার করে উচ্চমূল্যের পণ্য রপ্তানি করছে। এ পরিস্থিতিতে প্রক্রিয়াজাত ও ফিনিশড পাটপণ্য রপ্তানিতে প্রণোদনা বাড়ানো হবে, যাতে উদ্যোক্তারা উচ্চমূল্য সংযোজনমুখী বিনিয়োগে আগ্রহী হন।

পাট খাতের উন্নয়নে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদী কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, পাট অধিদপ্তরের ১৫ ধরনের লাইসেন্স অনলাইনে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাট আইন সংশোধন, বিশেষ প্রণোদনা, ‘জুট পোর্টাল’ চালু, শিল্প-একাডেমি সমন্বয়, পৃথক টাস্কফোর্স গঠন এবং পাটশিল্পভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ‘গোল্ডেন ফাইবার অব বাংলাদেশ’ নামে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ের কাজ চলছে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
সমন্বিত, আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে: তিতুমীর
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাফর ইকবাল আসামি
তিন বছর পর টেস্ট জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে সিরিজ ড্র করল পাকিস্তান
ক্ষমা চেয়ে সভাপতির পদ রক্ষা করলেন ইনফান্তিনো
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা