পিরোজপুরে ১৫ কিলোমিটার বাঁধ ভেঙে ১২ গ্রাম প্লাবিত

পিরোজপুর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৯ মে ২০২০, ২৩:২৪

পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া ও ইন্দুরকানি উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে ১৫ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাঁধ ভেঙে জেলার উপকূলীয় ১২টি গ্রামে জলোচ্ছ্বাসের পানি ডুকে গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জেলার ইন্দুরকানি উপজেলার কঁচা ও বলেশ্বর নদের তীরবর্তী টগরা গ্রাম। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের জলোচ্ছ্বাসে গ্রামটির সোয়া তিন কিলোমিটার বাঁধের এক কিলোমিটার ভেঙে গেছে। ভাঙা বাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে গ্রাম। এ অবস্থায় উপজেলার প্রায় সাড়ে ৩০০ পরিবারের জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে।

২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর পরবর্তী ভাঙা বাঁধ নিয়ে বছরের পর বছর দুর্বিসহ সময় কাটিয়েছে এই গ্রামের মানুষ। জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যেত বাড়িঘর। একবছর আগে নির্মিত হয়েছিল নতুন বেড়িবাঁধ। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় আম্পানে বাঁধটি আবার ভেঙে যায়। এখন ভাঙা বাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে প্লাবিত হচ্ছে গ্রাম।

টগরা গ্রামের বাসিন্দা সুমন সাংবাদিকদের বলেন, বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় আমাদের চলাচলসহ দৈনন্দিন কাজ ব্যহত হচ্ছে। আমাদের কষ্ট দূর করতে এখন ভাঙা বাঁধ দ্রুত নির্মাণ করা দরকার।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া ও ইন্দুরকানি উপজেলায় আম্পানের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসে ১৫ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাঁধ ভেঙে জেলার উপকূলীয় ১২টি গ্রাম জোয়ারের পানিতে গ্রামগুলো প্লাবিত হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের জলোচ্ছ্বাসে ছয় হাজার ৪৩০টি পুকুর ও ৩২৪টি ঘের ডুবে মাছ ভেসে গেছে। রবিশস্য, কলার বাগান, আউশের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জেলাজুড়ে ২৯৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে মঠবাড়িয়া উপজেলায় ১৪০ কিলোমিটার ও ইন্দুরকানি উপজেলায় ৯৪ কিলোমিটার। মঠবাড়িয়ার খেজুরবাড়িয়া থেকে বড়মাছুয়া লঞ্চঘাট পর্যন্ত ৫০০ মিটার বাঁধ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

এছাড়া চর ভোলমারা, কচুবাড়িয়া ও খেতাছিড়া গ্রামের বাঁধ আম্পানের জলোচ্ছ্বাসে ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইন্দুরকানির চণ্ডিপুর গ্রামের দেড় কিলোমিটার ও একই উপজেলার টগরা গ্রামের এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মঠবাড়িয়া উপজেলার খেতাছিড়া, কচুবাড়িয়া, চর ভোলমারা, মাঝেরচর, ইন্দুরকানির টগরা, চারাখালী, কালাইয়া, কলারণ, চর বলেশ্বর, চণ্ডিপুর, খোলপটুয়া ও সাউদখালী গ্রাম প্রতিরক্ষা বাঁধের অন্তত ১৫ থেকে ১৭টি স্থান জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে বাঁধ ভেঙে গেছে। ভাঙা বাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় রবিশস্য ও বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

মঠবাড়িয়ার খেতাছিড়া গ্রামের গৃহবধূ লাকী বেগম বলেন, গেল ঘূর্ণিঝড় আম্পানে জোয়ারের তোড়ে বাঁধ ভেঙে ঘরবাড়ি ডুবে গিয়েছিল। এখন জোয়ার হলেই ভাঙা বাঁধ দিয়ে পানি ডুকে বাড়িঘর তলিয়ে যায়। এ অবস্থায় রান্নাসহ দৈনন্দিন কাজে মারাত্মক সমস্যার মুখে পড়ছি।

ইন্দুরকানি উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম মতিউর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ মেরামতে পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পিরোজপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ সাংবাদিকদের জানান, মঠবাড়িয়া উপজেলার বড়মাছুয়া স্টিমারঘাট এলাকায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর তীর সংরক্ষণের কাজ শিগগিরই শুরু হবে। এছাড়া বলেশ্বর নদের তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে ১০০ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

তিনি বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ইন্দুরকানির টগরা গ্রামে এক কোটি ৩৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা ব্যয়ে সোয়া তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে বাঁধের এক কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙে যাওয়া বাঁধ সংস্কারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে প্রতিবেদন পেশ করবো।

(ঢাকাটাইমস/২৯মে/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :