করোনায় কারাগারে ‘নিরানন্দ’ ঈদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০১ আগস্ট ২০২০, ১২:১৭

করোনা মহামারির মধ্যে ঈদ উদযাপনে বরাবরেরই মতোই বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে সারা দেশে। সুরক্ষিত থাকতে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে অধিকাংশ জায়গায়। কারাগারগুলোতেও ছিল বাড়তি সতর্কতা। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে গত ঈদুল ফিতরের মতো এবারও খোলা মাঠে নামাজ আদায় করার অনুমতি মেলেনি। কারাবন্দিরা যার যার ওয়ার্ডেই আদায় করেছেন ঈদের জামাত। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অনেকটা নিরানন্দ ঈদ কাটছে তাদের।

সব সময় জাতীয় উৎসবের দিনগুলোতে কারাবন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেলেও এবার তা থাকছে না। প্রয়োজনে প্রিয়জনের সঙ্গে কারাগারের ফোন থেকে চার থেকে পাঁচ মিনিট কথা বলার সুযোগ পাবেন তারা। এছাড়া যথারীতি বিশেষ খাবারও পরিবেশন করা হচ্ছে কারাগারগুলোতে। কারাবন্দিতের ঈদের আনন্দ উপভোগে খেলাধুলার আয়োজনও করা হবে আগামীকাল। তবে তাও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই।

কেরাণীগঞ্জে দেশের কেন্দ্রীয় কারাগার এবং গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকালে বন্দিরা যার যার ওয়ার্ডে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। পরে তাদের মিষ্টান্ন হিসেবে পায়েস ও মুড়ি খেতে দেওয়া হয়েছে। কেরাণীগঞ্জে কারাগারে সাড়ে নয় হাজার বন্দি রয়েছেন। সকালে তাদের খেতে দেওয়া হয়েছে পায়েস আর মুড়ি। দুপুরে তারা খাবেন সাদা ভাই, রুই মাছ এবং আলুর দম। রাতের খাবারের তালিকায় থাকবে পোলাও গরুর গোশত। যারা গরু খেতে চান না তাদের জন্য থাকবে মুরগির গোশত। একটি মিষ্টি ও পান সুপারিও থাকবে।

কারাগারের একটি সূত্র জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে বন্দিদের সঙ্গে তাদের স্বজনদের সাক্ষাতের সুযোগ খুবই কম। চাইলে বন্দিরা তাদের প্রিয়জনের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না। তবে কারাগারের ফোন থেকে তারা দুই থেকে পাঁচ মিনিট কথা বলতে পারবেন। এ ব্যাপারে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এবারের ঈদে আলাদা করে কোন জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। বন্দিরা তাদের ওয়ার্ডে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।’

সারাদেশে ৬৮টি কারাগারের শুক্রবারের হিসাব মতে ৭৩ হাজার বন্দি রয়েছেন। এরমধ্যে গাজীপুর জেলায় পাঁচটি কারাগার রয়েছে। করোনাকালে দেশের কোন কারাগারেই বন্দিরা খোলা জায়গায় নামাজ আদায় করতে পারেননি।

এ ব্যাপারে কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক মনজুর হোসেন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘করোনার কারণে দেশের কোন কারাগারেই বন্দিরা খোলা জায়গায় নামাজ পড়তে পারেননি। ঈদুল আযহা উপলক্ষে দেশের প্রতিটি কারাগারেই দেওয়া হয়েছে বিশেষ খাবার। পরিবারের সাথে সাক্ষাতের তেমন সুযোগ না থাকলেও থাকছে টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ। ঈদের পরের দিন কারাগারের মধ্যে বন্দিদের খেলাধুলার আয়োজন করা হবে।’

(ঢাকাটাইমস/০১ আগস্ট/এএ/এইচএফ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :