বাউফলে আওয়ামী লীগে সংঘর্ষে দুজন নিহত, আটক ১১

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৩ আগস্ট ২০২০, ১৮:৪০

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এমপি সমর্থিত দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় যুবলীগ নেতা রাকিব উদ্দিন রোমান (৩৪) ও ছাত্রলীগ নেতা ইশাত তালুকদার (২৪) নিহত হন।

রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের কেশবপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ সোমবার বিকাল পর্যন্ত ১১ জনকে আটক করেছে। এদিকে জোড়া খুনের পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে এলাকা পুরুষশূণ্য হয়ে গেছে।

স্থানীয় সাংসদ সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ সমর্থিত উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সালাউদ্দিন পিকু ও সাধারণ সম্পাদক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন লাভলুর মধ্যে স্থানীয় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে পূর্ব বিরোধের জের ধরে লাভলুর সমর্থিত যুবলীগ নেতা রফিকুলকে বেধড়ক মারধর করে পিকু সমর্থিত ইউপি সদস্য যুবলীগ নেতা সুজন তালুকদার ও তার কর্মীরা। আহত অবস্থায় রফিকুলকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর জেরে ওই দিনই রফিকুলের অনুসারীরা দুপুর ২টার দিকে পিকুর সমর্থিত কর্মীদের উপর হামলা করে। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা বশির ও ইব্রাহিমকে আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে রবিবার সন্ধ্যায় সভাপতি সমর্থিত যুবলীগ নেতা রফিকুল কেশবপুর বাজারে গেলে যুবলীগ কর্মী রাকিব উদ্দিন রোমান ও ইশাত তালুকদাদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় উভয় পক্ষ লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে সালাউদ্দিন পিকুর ভাই যুবলীগ নেতা রাকিব উদ্দিন রোমান ও চাচাতো ভাই ইশাত তালুকদারসহ ছয়জন আহত হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আখতারুজ্জান জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই নিশাতের মৃত্যু হয়। অন্য দিকে রাত ৯টার সময় রাকিবকে নিয়ে এলে ২০ মিনিট পরেই তার মৃত্যু হয়। তাদের শরীরে ধারালে অস্ত্রের কোপসহ লাঠির আঘাত রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এমপি আসম ফিরোজ সমর্থিত কেশবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক ও ওই ইউপির চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন লাভলুর সাথে দীর্ঘ দিন ধরে আভ্যন্তরীণ বিরোধ চলে আসছে। একাধিকবার উভয় পক্ষের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। কিন্তু এ বিরোধ নিষ্পত্তি করতে দলের উপজেলা পর্যায়ে কোন নেতা হস্তক্ষেপ করেননি। ফলে এই বিরোধ চলমান ছিল। আর এর জের ধরেই এই জোড়া খুন সংঘটিত হয়েছে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার সকাল পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এলাকায় বিপুল পরিমান পুলিশ রয়েছে। সোমবার বেলা ৪ টা পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। জানাজা শেষে দাফনের পর হয়তো লিখিত অভিযোগ আসতে পারে।

(ঢাকাটাইমস/৩আগস্ট/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :