ঔদ্ধত্য কি সাকিবের স্বভাবজাত? কেন বারবার এমন করেন তিনি?

মুকুল মুর্শেদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১২ জুন ২০২১, ১৪:১৯ | প্রকাশিত : ১২ জুন ২০২১, ১৩:৫৯

এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাই ঘটে গেল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে। মোহামেডানের দেয়া ১৪৬ রানের জবাবে ব্যাট করতে নামে আবাহনী। ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসের পঞ্চম ওভারে বোলার তখন মোহামেডানের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তার করা ওভারের শেষ বল লাগে মুশফিকের প্যাডে, হলো আপিল। কিন্তু আম্পায়ার নাকচ করে দেন। এরপরই এক অদ্ভুত কাণ্ড করে বসেন টাইগার অলরাউন্ডার। বাঁ-পায়ে স্ট্যাম্পে মারলেন এক লাথি, উড়ে গেল বেলগুলো।

ঘটনা এখানেই শেষ নয়, এদিনকার ম্যাচে বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগেই আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে খেলা বন্ধ করা হলে আবারে চটে যান সাকিব। এবার দু-হাতে তিনটি স্ট্যাম্পই উপড়ে ফেলেন তিনি।

এরপর ফিরছিলেন ড্রেসিং রুমে। সেখানে ঘটে আরেক কাণ্ড, গ্যালারি থেকে আবাহনীর দর্শকেরা সাকিবকে উদ্দেশ্য করে কিছু একটা বলছিলেন। সেটার পাল্টা জবাবও দেন তিনি। এতে রেগে যান আবাহনী কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। এবার তাকেও ছাড় দেননি মোহামেডান অধিনায়ক। পরে অবশ্য মাফ চেয়ে নেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।

খেলার মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে সাকিব আল হাসানের এমন আচরণ কিন্তু এবারই প্রথম নয়। এর আগেও তার বাজে আচরণের নজির দেখেছে ক্রিকেটবিশ্ব। এর ফলে নিষিদ্ধও হয়েছেন তিনি। একের পর এক এমন আচরণের পর কয়েকটা প্রশ্নই সামনে আসে, ঔদ্ধত্য কি সাকিবের স্বভাবজাত? কেন বারবার এমন করেন তিনি?

মাঠে ছোটখাটো ভুল-ভ্রান্তি প্রায় সবারই হয়। কিন্তু তাই বলে কতবার? দেখে নেয়া যাক সাকিবের আগের কিছু এমন আচরণের ঘটনা-

অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি

সময়টা ২০১৪। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ চলছে। ঠিক এমন সময় টেলিভিশন ক্যামেরার দিকে সাকিব একটি অঙ্গভঙ্গি করার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। এরপর সাকিবকে ৩ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৩ লাখ টাকা জরিমানা করে বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটি।

ভক্তের সঙ্গে লঙ্কাকাণ্ড

২০১৮ সালে আমেরিকায় অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালে এক ভক্তের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন সাকিব। পরে অবশ্য তা নিয়ে ফেসবুকে বড় এক পোস্ট দেন।

আরেকবার ভক্তের সঙ্গে এক লঙ্কাকাণ্ডই ঘটান সাকিব। বিশ্বসেরা তারকাকে পেয়ে ছবি তুলতে যান এক সমর্থক। অনুমতি না নিয়ে মুখের সামনে সেলফির ভঙ্গিমায় ফোন তুলতেই রেগে যান এই টাইগার ক্রিকেটার। ফোন কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেন তিনি।

ফিক্সিংয়ের ঘটনা

না নিজে ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত নয়। কিন্তু ফিক্সিংয়ের অফার পেয়ে সেটা বিবিসিকে কিংবা আইসিসির কাছে না জানানোর অপরাধে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা ভোগ করতে হয়েছে সাকিব আল হাসানকে।

এছাড়া বোর্ডের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, ফটোসেশনে অংশ না নেয়া এবং টেস্ট খেলতে না চাওয়াসহ আরো অনেক বিতর্কই রয়েছে তার নামে।

স্ত্রী শিশিরের সাফাই

এদিকে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এমন অদ্ভুদ কাণ্ডের পরও স্বামীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন সাকিবপত্নী শিশির। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে এক লম্বা পোস্ট করেছেন তিনি। সেখানে তিনি লেখেন, গণমাধ্যমের মতো আমিও পুরো বিষয়টা খুব উপভোগ করছি। অবশেষে টিভিতে কিছু খবর পাওয়া গেল। যারা ঘটনার পরিষ্কার চিত্র বুঝতে পেরেছে, তাদের সমর্থন দিতে দেখা সত্যিই দারুণ। অন্তত কেউ একজনের তো সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহসটা রয়েছে।

যাই হোক, এখানে মূল বিষয়টা চাপা পড়ে যাচ্ছে। কারণ গণমাধ্যমে তার (সাকিব) রাগ দেখানোর বিষয়টিই সামনে আসছে। পুরো ঘটনায় মূল বিষয়টা হলো আম্পায়ারদের নেয়া ক্রমাগত ভুল সিদ্ধান্ত। কিন্তু শিরোনামগুলো সত্যিই হতাশাজনক।

এটা তার বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্র, যা দীর্ঘসময় ধরে চলে আসছে। যাতে যেকোনো পরিস্থিতিতে তাকে খলনায়ক বানানো যায়। আপনি যদি ক্রিকেটপ্রেমী হয়ে থাকেন, তাহলে নিজের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

তবে স্ত্রীর সমর্থন জুটলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে ধিক্কারই মিলছে সাকিবের। ক্রিকেটবোদ্ধারা বলছেন এটা নেহাতই ক্রিকেটকে অসম্মান করা।

(ঢাকাটাইমস/১২জুন/এমএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :