পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে সাজসাজ রব, উৎসবের আমেজ দুই পাড়ে

স্বপ্নের সেতুর ওপর দিয়ে পদ্মা পাড়ি দেয়ার অপেক্ষার পালা শেষ দেশবাসীর। শনিবার উদ্বোধন হতে যাচ্ছে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় অবকাঠামো পদ্মা সেতুর। বহুল কাঙ্ক্ষিত এই সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গত বুধবার পদ্মা সেতু বুঝিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষকে। এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষা। এ নিয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসছে পদ্মাপারের মানুষ থেকে শুরু করে দক্ষিণের ২১ জেলার মানুষ। পথে-ঘাটে, চায়ের কাপে, আড্ডায়-আলোচনায় সেই আনন্দেরই অনুরণন। চোখেমুখে স্বপ্নপূরণের আলোকছটা।
উদ্বোধনকে ঘিরে সেতু এলাকা ও রাজধানীসহ সারাদেশেই সাজ সাজ রব। সেতুর দুই প্রান্ত সেজেছে নতুন সাজে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় মহাসড়ক তথা ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ছেয়ে গেছে রঙ-বেরঙের ব্যানার-ফেস্টুনে। প্রাণের সে উৎসবের ছটা পড়েছে সবখানে। সড়ক-মহাসড়ক, রাস্তাঘাট, হাটবাজার ও অলিগলি ছেয়ে গেছে পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড আর তোরণে। যতদূর চোখ যায় যেন রঙের ছড়াছড়ি। বিভিন্ন স্থানে করা হয়েছে আলোকসজ্জা। মরিচবাতিতে উজ্জ্বল সেতু, নৌকা আর জাতীয় পতাকার প্রতিকৃতি।
মাওয়া প্রান্তে সেতু উদ্বোধনের পর সেতু পেরিয়ে দক্ষিণ প্রান্তে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে আরেকটি ফলক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পদ্মা সেতুর আদলে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল নান্দনিক মঞ্চ।
জনসভার জন্য পদ্মা সেতুর আদলে তৈরি হচ্ছে ১৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশাল মঞ্চ। মঞ্চের সামনে পানিতে ভাসমান অবস্থায় থাকছে নৌকা। প্রায় দশ লক্ষাধিক মানুষের জন্য ১৫ একর জায়গাজুড়ে চলছে এই প্রস্তুতি।
নিরাপত্তাজনিত কারণে জনসভা মঞ্চ, পদ্মা সেতু ও এর ভায়াডাক্ট এবং আশপাশের এলাকায় বৃহস্পতিবার সাধারণ মানুষকে ভিড়তে দেয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু উচ্ছ্বাসে ভাসা মানুষ যতটা সম্ভব কাছে গিয়ে তুলেছেন ছবি।
এ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ‘পদ্মা সেতু দেয়ালে, খেয়ালে’ স্লোগানে শরীয়তপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তুলাসার সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের দেয়ালে উদ্বোধন করা হয়েছে দেয়ালিকা। শিমুলিয়া ঘাটে শোভাযাত্রা করেছে টুরিস্ট পুলিশ।
এদিকে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেতু এলাকায় চলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শেষ মুহূর্তের মহড়া।
পদ্মা সেতুর উভয়পাড়ে তৈরি করা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা বলয়। এই নিরাপত্তা বলয় তৈরিতে কাজ করছে র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। আকাশে টহল দিচ্ছে হেলিকপ্টার। সমাবেশস্থলসহ গুরুত্বপূর্ণস্থানে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। বৃহস্পতিবার সেতুতে নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়াও হেলিকপ্টার দিয়ে সেতু এলাকায় টহল দিতে দেখা গেছে।
চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড-এমবিইসি পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছে। সেতুটি হস্তান্তর করলেও অবকাঠামোর ক্ষেত্রে যে কোনো ছোটখাটো কাজ আগামী একবছর চালিয়ে যাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।
(ঢাকাটাইমস/২৪জুন/এমআই/ইএস)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন










































