গৌরীপুরের স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শুভ্র হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড ৩ জনের যাবজ্জীবন

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ওইউসিসিএ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান শুভ্র হত্যা মামলায় মইলাকান্দা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান রিয়াদুজ্জামান রিয়াদসহ সাত জনকে মৃত্যুদণ্ড ও তিন জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে গৌরীপুর পৌরসভার বর্তমান মেয়র, তার দুই ভাইসহ নয় জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার ঢাকার দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মনির কামাল এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন- উপজেলা বিএনপির একাংশের যুগ্ম আহ্বায়ক ও মইলাকান্দা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান রিয়াদ উজ্জামান রিয়াদ, গৌরীপুর পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিব আহমেদ রেজা, উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য খাইরুল ইসলাম, মোজাম্মেল হক, ছাত্রদলকর্মী মাঈন উদ্দিন, শরীফুল ইসলাম, রুহুল আমিন। পাশাপাশি প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন- মাসুদ পারভেজ ওরফে কার্জন, শরীয়ত উল্লাহ ওরফে সুমন ও রাসেল মিয়া। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তাদের আরও ৬ মাস কারাদণ্ডের রায় দেন বিচারক।
খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- পৌর মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, তার দুই ভাই সৈয়দ তৌফিকুল ইসলাম ও সৈয়দ মাজহারুল ইসলাম জুয়েল, শাহজাহান মিয়া, কামাল মিয়া, রিফাত, হানিফ ওরফে আবু হানিফা, জাহাঙ্গীর আলম ও মজিবুর রহমান।
রায় ঘোষণার আগে ১৯ আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নিহতের ছোট ভাই মামলার বাদী আবিদুর রহমান বলেন, ‘মেয়রের হুকুমে আমার ভাইকে হত্যা করা হয়। তারা তিন ভাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। কিন্তু তারা খালাস পেয়ে গেলেন। এটা কেমন রায়। রায়ে আমরা অসন্তুষ্ট। আমরা আপিল করব।’
এর আগে গত ৬ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের দিন ধার্য করেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১৭ অক্টোবর গৌরীপুর মধ্যবাজার পান মহালে রাত ১০টার দিকে দুর্বৃত্তরা শুভ্রকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই আবিদুর রহমান বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক শাহ কামাল আকন্দ ১৯ জনকে অভিযুক্ত করে ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল চার্জশিট দাখিল করে। গত ২৬ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। মামলার বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ৩০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামিদের পক্ষে ৯ জন সাফাই সাক্ষ্য দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সংশ্লিষ্ট আদালতের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউর মাহবুবুর রহমান। আসামিদের পক্ষে ছিলেন মোশাররফ হোসেন কাজল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রমুখ আইনজীবী।
(ঢাকাটাইমস/১০অক্টোবর/জেডআর/এফএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































