শিয়ালবাড়ি আগুন: নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে

রাজধানীর মিরপুর শিয়ালবাড়ি আগুনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও দুর্ঘটনাস্থানে অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। আগুন লাগার পর মঙ্গলবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়— অগ্নিকান্ডের পর ভবনের দ্বিতীয়তলায় ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
একইদিন রাত সাতটার দিকে ফায়ার সার্ভিস জানায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সার্চ শেষে গার্মেন্টসের ভেতর থেকে ১৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যেগুলো— দ্বিতীয় এবং তৃতীয় তলায় ছিল। তবে কেমিকেল গোডাউনের আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি; আরও সময় লাগবে। সেখানে ৬/৭ ধরনের কেমিকেল ছিলো।’
তাজুল ইসলাম জানান, আগুন ধরার সঙ্গে সঙ্গে তা দ্রুত ছড়িয়েছে, তাই গার্মেন্টস অংশে থাকা কর্মীরা বাইরে বের হতে পারেনি; ছাদেও উঠতে পারেনি। তাই তাদের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে— বলে জানান তিনি।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল ও আশপাশের হাসপাতালগুলোতে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে ফিরছেন অসংখ্য মানুষ। অনেকে প্রিয়জনের ছবি হাতে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। পোশাক কারখানার ভেতরে কাজ করা অনেক শ্রমিকের এখনো কোনো খোঁজ মেলেনি।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়। ১১টা ৫৬ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শুরুতে পাঁচটি ইউনিট কাজ শুরু করে; পরে মোট ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। রাত সাতটা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে পোশাক কারখানায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, এরপর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পাশের কেমিক্যাল গোডাউনে। এতে আগুন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক মজুত থাকায় কেমিক্যাল গোডাউনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগছে। এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।’
ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কাজ করছে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা। উৎসুক জনতার ভিড় সামলাতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা।
সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনী সাধারণ মানুষ ও নিখোঁজদের স্বজনদের শান্ত রাখার চেষ্টা করছেন। ঘটনাস্থলজুড়ে আতঙ্ক, কান্না আর শোকের ছায়া বিরাজ করছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































