মাগুরা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় ‘ব্যক্তিগত আখড়া’ বানানোর অভিযোগ উপপরিচালকের বিরুদ্ধে

মাগুরা জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক গাজী বশির আহমেদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। ২১তম বিসিএসের এই কর্মকর্তা গত বছরের জানুয়ারিতে মাগুরায় যোগদান করলেও নিয়মিত কর্মস্থলে অবস্থান করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিনি খুলনায় অবস্থান করে ইচ্ছামতো মাগুরার দপ্তর পরিচালনা করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, গাজী বশির আহমেদ নিজস্ব লোকজনের মাধ্যমে কার্যালয়ের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং বদলি ও প্রশাসনিক আদেশকে ঘিরে গড়ে তুলেছেন ঘুষ–বাণিজ্যের একটি নেটওয়ার্ক।
জানা গেছে, মাগুরা সদর উপজেলার টিএফপিএ মিরাজুল ইসলামকে বদলির আদেশ জারি করার এক দিনের মধ্যেই সেই আদেশের কপি ছিঁড়ে ফেলা হয়। পরে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা যায়, ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে ওই বদলির আদেশ বাতিল করা হয়। মিরাজুল ইসলাম স্থানীয় আওয়ামী লীগের একজন সদস্য বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির আরও অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
আরেকটি অভিযোগে বলা হয়, রেশমা খাতুন টিএফপিএ ও সহকারী কর্মকর্তা পদে কর্মরত থাকলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তার নিয়োগ অবৈধ। এ বিষয়ে একাধিকবার মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও গাজী বশির আহমেদ কোনো পদক্ষেপ নেননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার কারণে রেশমা খাতুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মাগুরা শ্রীপুর উপজেলার টিএফপিএ মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে সপ্তাহে দুই দিন মাগুরা সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসে হিসাব শাখার দায়িত্ব দেওয়ার আদেশ দেন গাজী বশির আহমেদ। তবে অভিযোগ রয়েছে, এক লাখ টাকা নেওয়ার পর সেই আদেশও বাতিল করে দেওয়া হয়।
এছাড়া মাগুরা সদর উপজেলার টিএফপিএ জীবন কুমার বশুকে মোহাম্মদপুর উপজেলায় পেশনে রেখে সদর উপজেলায় মিরাজুল ইসলামকে কার্যত একচ্ছত্র ক্ষমতা দিয়ে ঘুষ ও দুর্নীতির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মাগুরা সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম একাধিকবার জীবন কুমার বশুর পেশনের আদেশ বাতিলের অনুরোধ জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে নারী সহকর্মীদের নিয়ে নিয়মিত রান্নাবান্না, খাওয়া-দাওয়া ও পিকনিক আয়োজন করেন গাজী বশির আহমেদ, যা দপ্তরের পরিবেশ ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
সূত্র জানায়, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মীর সাজেদুর রহমান গাজী বশির আহমেদের ‘রক্ষাকর্তা’ হিসেবে ভূমিকা পালন করছেন। এর আগেও সাতক্ষীরা জেলায় কর্মরত অবস্থায় তার বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছিল বলে জানা গেছে।
মাগুরায় যোগদানের পর থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তার অধীনস্থ একাধিক কর্মকর্তা। তারা এসব বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে লিখিতভাবে জানালেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, মাগুরা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়কে কার্যত নিজের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে পরিণত করে ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন গাজী বশির আহমেদ।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার গাজী বশির আহমেদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
আর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মীর সাজেদুর রহমান এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































