বিএসইসি কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:০৫| আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:২২
অ- অ+

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক মো. আনোয়ারুল ইসলামকে ঘিরে পুঁজিবাজারে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠেছে। ব্রোকার হাউসকে হয়রানি, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অনৈতিক সুবিধা দাবির অভিযোগও রয়েছে বলে বাজারসংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে।

বিএসইসির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, আনোয়ারুল ইসলাম বর্তমানে মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন এবং মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, বাজারে সূচকের ইতিবাচক প্রবণতা দেখা দিলে বিভিন্ন ব্রোকার হাউসের কার্যক্রমে প্রশাসনিকভাবে হস্তক্ষেপ করা হয়। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেওয়া, কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় দেখিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের একটি অংশের দাবি, হয়রানি থেকে বাঁচতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া কিছু ব্রোকার হাউসের প্রতিনিধির কাছে অর্থ দাবি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অর্থ উপদেষ্টা, অর্থমন্ত্রী, বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিগত সরকারের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রাখার অভিযোগও উঠেছে। সাবেক বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম ও সাবেক কমিশনার তারিকুজ্জামানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার দাবিও করা হয়েছে। তবে এসব রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ব্রোকার হাউসগুলোর ট্রেড স্থগিতের বিষয়েও অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ও ফি পরিশোধ করে লাইসেন্স নবায়নের জন্য কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও কিছু প্রতিষ্ঠানের ফাইল আটকে রাখা হয়েছে। এমনকি কাস্টমার অ্যাকাউন্টে উদ্বৃত্ত অর্থ এবং স্টক রিকনসিলিয়েশন সম্পন্ন থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর ট্রেডও স্থগিত রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এতে সংশ্লিষ্ট ব্রোকার হাউসগুলোর সঙ্গে যুক্ত বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বলে দাবি করেছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তবে প্রায় এক লাখ বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবিটির স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।

এদিকে বিএসইসির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন ব্রোকারেজ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ আইন না মানার অভিযোগে একাধিক এনফোর্সমেন্ট আদেশ দেওয়া হয়েছে। এসব ব্যবস্থার মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক সিদ্ধান্ত রয়েছে।

গত ২৮ আগস্ট বিএসইসির নির্বাহী পরিচালকদের দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের পর আনোয়ারুল ইসলামকে মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স এবং মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন—দুই বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বাজারসংশ্লিষ্টদের একাংশ অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে। তাদের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগের সত্যতা না থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অবস্থানও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে মো. আনোয়ারুল ইসলাম বা বিএসইসির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা যেতে পারে। বর্তমানে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন।

(ঢাকাটাইমস/২৭ সেপ্টেম্বর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
হাম উপসর্গে একদিনে ৯ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩৪১
যাত্রাবাড়ীতে ৩৫ লাখ টাকার জালনোটসহ দুজন গ্রেপ্তার
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সলের মনোনয়ন দাখিল
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী