ইউনাইটেড গ্রুপসহ ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের জালে ফেঁসে যাচ্ছে তালিকাভুক্ত কয়েক কোম্পানি

শেয়ারবাজারে সম্ভাব্য ইনসাইডার ট্রেডিং ও দর কারসাজির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (কেপিসিএল), ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডসহ (ইউপিজিডিসিএল) কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
তদন্তে ইউনাইটেড গ্রুপের চিফ অ্যাডভাইজার হাসান মাহমুদ রাজা এবং ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের (ইউইসিএল) চেয়ারম্যান মঈনউদ্দিন হাসান রশিদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগের বিষয়ে কাউকে দায়ী করা যাচ্ছে না।
বিএসইসির গত ৭ অক্টোবর প্রকাশিত সংশোধিত নির্দেশনায় এ তদন্তের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তে বিএসইসির পরিচালক মোহাম্মদ শামসুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন কমিশনের যুগ্ম পরিচালক জিয়াউর রহমান ও সহকারী পরিচালক আলী আহসান।
সংশোধিত নির্দেশনা জারির দিন থেকে পরবর্তী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের পরিদর্শন ও তদন্ত শাখা থেকে জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় অভিযোগগুলো বিস্তারিতভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।এম এম হাবিবুল্লাহ ও নুরুজ্জামান জিন্নাহর করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অন্যের নামে খোলা বেনামি বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্ট ও ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রকৃত মালিকানা আড়াল করা হয়েছে। এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ইনসাইডার ট্রেডিং ও শেয়ারের দর কারসাজি হয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি ইউনাইটেড পাওয়ার, সংশ্লিষ্ট সহযোগী প্রতিষ্ঠান, মালিকানাসংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, সহযোগী ও নিকটাত্মীয়দের নামে থাকা প্রাসঙ্গিক ব্যাংক হিসাব, বিও অ্যাকাউন্ট ও ট্রেডিং অ্যাকাউন্টের তথ্য যাচাই করবে।
এসব হিসাবের প্রকৃত নিয়ন্ত্রক ও পরিচালনাকারী কারা ছিলেন এবং লেনদেনের মাধ্যমে কারা সুবিধা পেয়েছেন, তা শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।শেয়ার কেনার অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনের অর্থপ্রবাহও তদন্তের আওতায় থাকবে। ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড কিংবা এর কোনো অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মাধ্যমে সন্দেহজনক অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, তা যাচাই করবেন তদন্তকারীরা।
এ ছাড়া শেয়ার লেনদেন থেকে পাওয়া নগদ লভ্যাংশ ও অন্যান্য আয়ের চূড়ান্ত সুবিধাভোগী কারা, তা নির্ধারণে অর্থের উৎস অনুসরণ করা হবে। সন্দেহভাজন বিও অ্যাকাউন্টে থাকা শেয়ারের প্রকৃত মালিকানা এবং সেগুলোর ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে ছিল, সেটিও পরীক্ষা করা হবে।
কোনো জটিল ব্যাংকিং বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকৃত মালিকের পরিচয় গোপন করা হয়েছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে।ইউনাইটেড পাওয়ার ও কেপিসিএলসহ সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারে কৃত্রিমভাবে দর বাড়ানো, প্রতারণামূলক কৌশল কিংবা সংঘবদ্ধ কারসাজি হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করবে কমিটি।
পাশাপাশি কোম্পানির মূল্যসংবেদনশীল ও অপ্রকাশিত তথ্য ব্যবহার করে অসাধু লেনদেন করা হয়েছে কি না, তথ্যগুলো কার কাছে ছিল এবং কীভাবে সেগুলো আদান-প্রদান করা হয়েছে, তাও অনুসন্ধান করা হবে।
হাসান মাহমুদ রাজা ও মঈনউদ্দিন হাসান রশিদের পাশাপাশি অভিযোগকারী এম এম হাবিবুল্লাহ ও নুরুজ্জামান জিন্নাহসহ অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বেআইনি সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা-ও যাচাই করা হবে।তদন্তের পরিধিতে সংশ্লিষ্ট শেয়ার ব্রোকারেজ হাউস, মার্চেন্ট ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এবং অন্যান্য আর্থিক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
অ্যাকাউন্ট খোলা, শেয়ার কেনার আদেশ কার্যকর করা, লভ্যাংশ বিতরণ এবং অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো অবহেলা বা অনিয়মে সহায়তার ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
মূলত সিকিউরিটিজ আইন, ইনসাইডার ট্রেডিং নিষিদ্ধসংক্রান্ত বিধিমালা, অননুমোদিত অ্যাকাউন্ট পরিচালনা এবং প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকানা গোপনের সঙ্গে সম্পর্কিত আইন লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করাই তদন্তের অন্যতম লক্ষ্য।
বিএসইসির নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত বিষয়গুলোর বাইরে তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট অনিয়মের বিষয়ে নতুন কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া গেলে সেগুলোও তদন্তের আওতায় আনা যাবে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হলে শেয়ারবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।(ঢাকাটাইমস/১০ অক্টোবর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












