স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা
সায়েদাবাদে মানিক চক্রের দাপট: অভিযোগে মামলা-জিডি, নেই প্রতিকার

রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকায় আলাউদ্দিন মানিককে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে দাপট, ভয়ভীতি ও হামলার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। নিজেকে যাত্রাবাড়ী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক পরিচয় দেওয়া মানিকের নেতৃত্বে তার ভাই ‘হাইড্রোলিক’ বিল্লাল, সুমন ও রোমানকে নিয়ে গঠিত এই চক্রের বিরুদ্ধে থানায় মামলার পাশাপাশি একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। তবে এতে কার্যত কোনো দৃশ্যমান প্রতিকার মিলছে না।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রের ভয়ে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলাউদ্দিন মানিকের সঙ্গে তার আপন ভাই বিল্লাল ওরফে ‘হাইড্রোলিক’ বিল্লাল, সুমন ও রোমান মিলে সায়েদাবাদ এলাকায় একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। স্থানীয়ভাবে গাড়ির যন্ত্রাংশ ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এই চক্রের আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সায়েদাবাদে তাদের ‘শফি মটরস্’ নামের একটি গাড়ির যন্ত্রপাতির বিক্রির দোকান রয়েছে। এছাড়া আলাউদ্দিন মানিকের হুমকি-ধামকির একাধিক কল রেকর্ড ঢাকা টাইমস প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
ভুক্তভোগীদের করা জিডিগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, একই ধরনের অভিযোগ বারবার উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসায়িক লেনদেন বা মালামাল ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে সামান্য বিরোধ হলেই অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে উপস্থিত হয়ে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন, গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে থাকে।
চলতি মাসের ১ এপ্রিল দায়ের করা একটি জিডিতে উল্লেখ করা হয়, সায়েদাবাদ এলাকায় মালামাল ক্রয়ের সময় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ভুক্তভোগীর ওপর হামলার চেষ্টা চালানো হয়। সেখানে আলাউদ্দিন মানিক, হাইড্রলিক বিল্লাল, রোমান ও সুমন সরাসরি হত্যার হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া গত ৩১ মার্চ দায়ের করা আরেকটি জিডিতে বলা হয়, এক ভুক্তভোগীকে ডেকে নিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে আলাউদ্দিন মানিক, হাইড্রলিক বিল্লাল ও সুমনসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিরা এবং পরবর্তীতে তার প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মীদের ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়।
এছাড়া যাত্রাবাড়ী থানায় তাদের বিরুদ্ধে হওয়া একটি মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মানিকের ছোট ভাই সুমন নুর আলম আজাদ নামের এক ব্যবসায়ীকে প্রথমে মারধর করে। পরে তার গায়ে গরম চা নিক্ষেপ করে দগ্ধ করে। ভুক্তভোগীর দাবি, এই হামলার পেছনে আলাউদ্দিন মানিকের নির্দেশনা ছিল। দগ্ধ হয়ে তিনি বেশ কিছুদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
দগ্ধ নুর আলম আজাদ
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, মানিক চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন নয়। তবে মামলা, জিডি ও অভিযোগের পরও তাদের কার্যক্রম বন্ধ না হওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এই প্রতিবেদককে একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমরা কেউ নিরাপদ না। প্রতিবাদ করলেই হুমকি আসে।’
গত ১ এপ্রিল যাত্রাবাড়ী থানায় জিডি করা এক ভুক্তভোগী জানান, আলাউদ্দিন মানিক স্থানীয়ভাবে মোটর গাড়ির যন্ত্রপাতি বিক্রি করে এবং আমরা একসময় তাদের থেকে মালামাল কিনতাম। কিন্তু ইদানিং তারা খারাপ যন্ত্রপাতি দেয় এবং দামে গড়মিল করে। এ কারণে আমরা অন্য দোকান থেকে মালামাল কিনতে যাওয়ায় তারা বাঁধা প্রদান করে। আমাদের স্টাফরা অন্য দোকানে গেলে তাদেরকে মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়। এভাবে আলাউদ্দিন মানিকের দোকান থেকে কিনতে বাধ্য করে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা কোনো অনুরোধ রাখেনি। সর্বশেষ ১ এপ্রিল আমাদের এক ফোরম্যান অন্য একটি দোকানে মাল কিনতে গেলে সুমন ও হাইড্রলিক বিল্লাল তাদের আটকিয়ে ফেলে। পরে আমি ওই ফোরম্যানকে উদ্ধার করলে আমাকেও সেখানে আটকানো হয়। একপর্যায়ে সেখানে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মানিকও উপস্থিত হয়। পরিস্থিতি খারাপ দেখে আমরা পুলিশকে খবর দিলে তারা আসে। তবে পুলিশের সামনেও আমাদের হেনস্থা করে। সেখানে আমাদের পক্ষে কেউ কথা বললে তাদের সাথেও খারাপ আচারণ করা হয়। পরে টার্মিনাল ফাঁড়ির পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে।
এই ভুক্তভোগী আরও বলেন, রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করে সেটা দেশ, জাতি, সমাজ ও দলের জন্য ক্ষতিকর। তিনি এ ধরনের কার্যকলাপ বন্ধে দলের শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু বলেন, ‘এ বিষয়ে আসা অভিযোগগুলো তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।’
অভিযোগ বিষয়ে অভিযুক্ত আলাউদ্দিন মানিকের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাতে তিনি সাড়া দেননি।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































