সালথায় মাদকসেবন ও লিচু চুরিতে ছেলের বাধা, মাদকসেবীদের পিটুনিতে বৃদ্ধ বাবা খুন

নিজের লিচুবাগান পাহারা দেওয়ার জন্য বসানো টংঘরে মাদকসেবনের আড্ডা ও বাগানের লিচু চুরিতে ছেলে বাধা দেওয়ায় তাকে মারধর এবং পরে বৃদ্ধ বাবা বাগানমালিক আজিজুলকে একটি বাজারে জনসমক্ষে পিটিয়ে হত্যা করেছে মাদকসেবীরা।
বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যা সাতটার দিকে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া বাজারে শতাধিক মানুষের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। নিহত আজিজুল ফুলবাড়িয়া গ্রামের গুপিনগর পাড়ার মৃত মানো মোল্যার ছেলে।
এদিকে আজিজুল নিহত হওয়ার পর পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় অন্তত ১৫টি বসতবাড়ি ভাঙচুর করা হয়। লুট করা হয় অন্তত ১৩টি গরু। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, ফুলবাড়িয়া গ্রামে নিজের লিচুবাগান পাহারা দিতে সেখানে একটি টংঘর বসান কৃষক আজিজুল। কিন্তু রাত হলেই ওই টংঘরে মাদকের আড্ডা বসাতেন সোনাপুর ইউনিয়নের চরবাংরাইল গ্রামের মোশারফ মুন্সির ছেলে সাকিল মুন্সি ও তার সহয়োগীরা। মাদক সেবনের পর তারা লিচু চুরি করে খেতেন। দিনে দিনে তাদের অনাচারের মাত্রা বেড়ে গেলে বাধা দেন আজিজুলের ছেলে আকরাম। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাকিল ও তার ভাই তুষার মারধর করে আকরামকে ।
এ ঘটনার পর সন্ধ্যায় আকরামের বাবা আজিজুল ফুলবাড়িয়া বাজারে গিয়ে সাকিল ও তুষারের কাছে ছেলেকে মারধরের বিষয়টি জানতে চান। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে আজিজুলের ওপর হামলা চালায় তুষার ও সাকিল। তারা বাঁশের লাঠি দিয়ে আজিজুলকে বেধড়ক মারপিট করলে তিনি ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন।
পরে বাজারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে আজিজুলের নিহতের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলকারীদের বাড়িতে চড়াও হয়ে বেশ কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে সাকিল-তুষারের পক্ষের লোকজন আজিজুলের পক্ষের কয়েকজনের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে।
রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত পাল্টাপাল্টি হামলায় অন্তত ১৫টি বসতঘর ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার সময় লুট করা হয় ১৩টি গরু।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে লুট হওয়া ১৩টি গরুর মধ্যে ১১টি গরু উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই এলাকার পরিবেশ স্বভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ধার না হওয়া দুটি গরুর খোঁজ চলছে বলে জানান তিনি।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা হয়নি জানিয়ে ওসি আরও বলেন, ‘তবে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানতে পেরেছি। হামলাকারীদের ধরতে অভিযান চলছে।’
(ঢাকাটাইমস/১৪মে/মোআ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































