লংমার্চে বাধা দিলে ৬ দফা এক দফায় পরিণত হবে: নাহিদ ইসলাম

দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে চলমান সংকটের মধ্যে আয়োজিত ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চকে ‘আপামর জনতার’ কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করে এতে বাধা দেওয়া হলে ১১ দলের ছয় দফা দাবি এক দফায় রূপ নেবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচারসহ ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য এ লংমার্চের আয়োজন করেছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে চলমান সংকটের মধ্যে আয়োজিত এ লংমার্চ আপামর জনতার। নতুন করে যারা স্বৈরাচার হতে যাচ্ছে, যারা চাঁদাবাজি করছে এবং যারা গণভোটের গণরায়ের বিরুদ্ধে প্রতারণা করেছে—এই লংমার্চ তাদের বিরুদ্ধে।
তিনি বলেন, যত বাধাই আসুক, ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ চট্টগ্রামে পৌঁছাবে।
এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘সরকার লংমার্চে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে লংমার্চের ৬ দফা এক দফায় পরিণত হবে।’
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য ঘোষিত লংমার্চে কোনো বাধা এলে তা মোকাবিলা করেই গন্তব্যে পৌঁছানো হবে।
তিনি বলেন, ‘জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ক্ষমতার মসনদে বসে জাতিকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করলে তাদের টেনে নামাতে হাত এক চুলও কাঁপবে না।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ব্যর্থ হয়েছে। দিন দিন মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।
তিনি বলেন, সরকারকে সংসদে ভুল স্বীকার করে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, দেড়শ টাকার লাঞ্চের গল্প আর ৫০ হাজার ফ্যামিলি কার্ড ছাড়া গত ছয় মাসে বিএনপি সরকারের বলার মতো আর কোনো সাফল্য নেই।
তিনি বলেন, ৩১ দফার স্বপ্ন দেখানো এবং জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা দলের কর্মকাণ্ডে ইতোমধ্যে মানুষ হতাশ হতে শুরু করেছে।
মঞ্জু প্রশ্ন রাখেন, যারা গণভোটের রায় মানে না, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়াবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে দাম বাড়ায় এবং দলীয়করণ করবে না বলে ব্যাপকহারে দলীয়করণ করে—জনগণ কীভাবে তাদের বিশ্বাস করবে?
উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে লংমার্চের গাড়িবহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। পথে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী ও চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পথসভা করার কথা রয়েছে।
লংমার্চটি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
(ঢাকাটাইমস/৫ সেপ্টেম্বর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































