রাজবাড়ীতে আখখেতের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে বৃদ্ধার মৃত্যু, লাশ গুমের চেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত, তবু বাড়ি ফিরছিলেন না নবিরন নেছা। বর্গা জমিতে কৃষিকাজ করতে যাওয়া ৫৫ বছর বয়সী এই নারীকে খুঁজতে বেরিয়ে স্বজনেরা শেষ পর্যন্ত দেখতে পান, পাশের জমির পানিতে পড়ে আছে তার নিথর দেহ। প্রথমে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে পানিতে পড়ে মৃত্যুর কথা মনে করা হলেও পরে ঘটনাস্থলে থাকা অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি সামনে আসে। অভিযোগ ওঠে, ওই বিদ্যুৎ সংযোগের তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই নবিরনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরদেহ সরিয়ে গুমের চেষ্টাও করা হয়।
সম্প্রতি রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম মৃধাকে (৩৫) ফরিদপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০। গ্রেপ্তারকৃত রফিকুল ইসলাম মৃধা রাজবাড়ীর গোয়ালন্দঘাট থানার আইনুদ্দিন প্রামাণিক পাড়ার বাসিন্দা। নবিরন নেছার মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি তিনি।
শনিবার দুপুরে র্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কোম্পানি কমান্ডার ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদ বলেন, নিহত নবিরন নেছা চর দৌলতদিয়া এলাকায় বসবাস করতেন। দরিদ্রতার কারণে শারীরিকভাবে দুর্বল হলেও তিনি নিজেই বর্গা জমিতে কৃষিকাজ করতেন। গত ২ সেপ্টেম্বর বিকাল চারটার দিকে তিনি বর্গা জমিতে কৃষিকাজ করতে যান। সন্ধ্যার পরও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে খুঁজতে বের হন।
পরে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে প্রতিবেশী রফিকুল ইসলাম মৃধার জমির পাশের আখখেতের পানিতে নবিরন নেছার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তার মেয়ে। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
র্যাবের ভাষ্য, প্রথমে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে পানিতে পড়ে নবিরন নেছার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলের আশপাশে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, রফিকুলের জমির আখখেতের চারপাশে জিআই তার দিয়ে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া ছিল। ওই তারের সংস্পর্শে এসে নবিরন নেছার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে মরদেহটি ধানখেত থেকে টেনে আখখেতে নেওয়া হয় এবং মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে আখখেতের পাশে গর্ত খনন করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য র্যাব-১০ এর কাছে অধিযাচনপত্র পাঠান।
এরপর গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-১০-এর সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি দল অভিযানে নামে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটার দিকে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার বেপারীপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে রফিকুল ইসলাম মৃধাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অধিযাচনপত্র পাওয়ার প্রায় আট ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন







