কবিতা
শর্তহীন শর্তে

পথে পথে আমি পথ খুঁজে কেবল পথের ঠিকানা হারাই,
পথের কাটায় ক্ষতবিক্ষত পা তবু সামনে বাড়াই।
প্রতিটি মোড়ে মনে হয়, এবার বুঝি পৌঁছে গেছি কোনো অর্থের কাছে;
কিন্তু অর্থ তার খোলস বদলে সরে যায় আরও দূরে,
যেমন সন্ধ্যার শেষে দিগন্ত সরে যায় রাতের দিকে।
হাতে যে মানচিত্র ছিল, তা আসলে ছিল আমার বিশ্বাসের প্রতিলিপি;
প্রথম ঝড়েই তার রেখাগুলো মুছে যায়।
তখন বুঝি, পথকে জানা আর পথকে হাঁটা
এক জিনিস নয়।
.
আমি দেখেছি পাহাড়কে;
বাহিরে অনড়, ভিতরে ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে।
দেখেছি নদীকে;
নিজের তীর ক্ষয় করতে করতেই সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
একদিন একটি বৃক্ষের ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছিলাম।
পরে দেখলাম, তার শিকড় আমার পায়ের চারপাশে জড়িয়ে গেছে।
যাকে আশ্রয় ভেবেছিলাম, সে-ই হয়ে উঠেছিল বন্ধন।
আকাশের দিকে তাকিয়ে যত নক্ষত্র গুনেছি,
ততবার অনুভব করেছি,
আলোও অনেক সময় দূরবর্তী অন্ধকারের
স্মৃতি ছাড়া আর কিছু নয়।
আমার ভেতরে একটি ভাঙা কম্পাস আছে।
সে কোনো উত্তরমুখী দিক দেখায় না,
শুধু ঘুরতে থাকে অস্তিত্বের অদৃশ্য চৌম্বকক্ষেত্রে।
তবু তার এই অনিশ্চয়তাই আমাকে চলতে শেখায়।
.
হারিয়ে যাওয়ারও এক প্রজ্ঞা আছে;
বন জানে, নদী জানে, পরিযায়ী পাখিরা জানে।
শুধু মানুষই বারবার গন্তব্যের নামে নিজের চারপাশে দেয়াল তোলে।
এখন আমি বুঝতে শিখেছি,
পথ কখনো কেবল মাটির উপর আঁকা কোনো রেখা নয়;
পথ হলো এক অন্তহীন পরিত্যাগ,
একটি পরিচয় থেকে আরেকটি পরিচয়ের দিকে যাত্রা।
তাই আজও অবিরাম হাঁটি——
কোনো শেষ ঠিকানার জন্য নয়,
বরং সেই অদেখা রূপান্তরের জন্য
যেখানে পথিক, পথ এবং পথহারা হওয়া
একসময় মিশে যায় একই অর্থে
পূর্ণ সমর্পণের নি:শর্ত শর্তে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































