জীবনের গতিধারা

ঘড়ির কাঁটার উপর ঠায় বসে থাকে আমার দিন,
সময়ের পিঠে ঝুলে থাকে রাতের ক্ষীণ ছায়া।
নড়াচড়ার ফাঁকে ফাঁকে জন্ম নেয় আমার নাম,
থেমে গেলেই আমি—একটি প্রশ্নচিহ্ন মাত্র।.
আমি হাঁটি না, কাঁটাই আমাকে হাঁটায়,
আমি বলি না, টিকটিক শব্দেই ভাষা।
বৃত্তের ভেতর বৃত্ত ঘোরে অবিরাম,
মাঝখানে পড়ে থাকে আমার অনিশ্চয়তা।.
কখনো দ্রুত—হঠাৎ উজাড় করে ভবিষ্যৎ,
কখনো ধীর—ক্ষয়কে করে দীর্ঘায়িত।
থামলে সে, আমিও থামি শ্বাসের কিনারে,
বেজার মুখে সময় বসে থাকে মরচে ধরা।.
কারণ কেউ জানে না কেন সে নড়ে,
কেন থামে, কেন আবার ছুটে যায়।
যুক্তি সব বাইরে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে,
ভেতরের মানে কেবল কাঁটাই জানে।.
আমি তার ছায়া, না কি সে আমার?
আয়নায় দু’জনেই ভাঙা।
প্রতিটি চক্করে খসে পড়ে স্মৃতি,
সংখ্যার গায়ে জমে ধুলো।.
ঘন্টা বাজে—কেউ আসে না,
মিনিট ডাকে—কেউ শোনে না।
সেকেন্ডের ক্ষুদ্র মৃত্যুতে
আমি প্রতিবার নতুন করে হারাই।.
তবু এই বৃত্তেই আমার ঘর,
এই লোহার কেন্দ্রে আমার প্রার্থনা।
যদি একদিন কাঁটা খুলে যায় সময় থেকে,
আমি মুক্ত হবো, না কি শূন্য?.
তাই চুপচাপ বসে থাকি কাঁটার উপর,
নড়াচড়ার মাঝেই গুছাই জীবন।
আমি বলে কিছু নেই—এই সত্যে স্বস্তি,
সবই কাঁটার লীলা, বাকি সব নীরবতা।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































