ইরানের একাধিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা, নিহত ৮ সেনা

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৮ জন ইরানি সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। হামলার পর দেশটির বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে পূর্ণমাত্রার সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, বন্দর আব্বাস ও বুশেহর এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহতরা ইরানের বিমান ও নৌবাহিনীর সদস্য ছিলেন।
হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে অঞ্চলকে আবারও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইরান অতীতের মতো এবারও যেকোনো ‘দুঃসাহসিকতার’ তাৎক্ষণিক ও উপযুক্ত জবাব দেবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণার পরই দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে চলা পাল্টাপাল্টি হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সিরিক, বন্দর আব্বাস, কোনারাক, চাবাহার, জাস্ক ও বুশেহরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বন্দর আব্বাসে অন্তত আটটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি সিরিক ও জাস্ক বন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটেছে। বিতর্কিত আবু মুসা দ্বীপেও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানানো হয়েছে।
হামলার পর বন্দর আব্বাসে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, চাবাহারে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে এবং বুশেহরে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর একটি ব্যারাকে আগুন লেগেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে এমন সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর সাম্প্রতিক হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে।
হামলার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা ঘটলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও দেশটির কর্মকর্তারা আগে থেকেই সতর্ক করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন হামলা চালালে তার দ্রুত জবাব দেওয়া হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ‘অশালীন কথার জবাব আমরা অশালীন ভাষায় দিই না; আমরা জবাব দিই কাজে, নির্ভয়ে ও সাহসের সঙ্গে।’
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সর্বশেষ হামলায় ইরানশাহর, বন্দর আব্বাস, কোনারাক, চাবাহার, বুশেহর এবং আক কালা এলাকা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ইরানের মেহর ও ফার্স সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চাবাহারে একটি সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার ও একটি গুদামে হামলা হয়েছে। এছাড়া আক কালা এলাকায় একটি রেলসেতুও হামলার শিকার হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে তারা ইরানে শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরান দাবি করে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলা সবচেয়ে বড় সংঘর্ষ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, গত মাসে ইরানের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতির চুক্তি কার্যত শেষ হয়ে গেছে। তিনি জানান, আগের রাতে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর হামলা চালিয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আবারও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর আন্তর্জাতিক মহল নিবিড় নজর রাখছে।
(ঢাকাটাইমস/৯ জুলাই/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































