ভারী বর্ষণে খাগড়াছড়ি প্লাবিত: সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, জনজীবন বিপর্যস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:১০
অ- অ+

ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় খাগড়াছড়ি জেলা প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় জেলার একাধিক এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকের সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে দীঘিনালা-সাজেক সড়কের কবাখালী, বাঘাইহাট বাজার ও মাচালং বাজারসংলগ্ন এলাকায় পানি উঠে সড়ক তলিয়ে গেছে। ফলে ওই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। একইভাবে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-লংগদু সড়কের মেরুং অংশেও পানি উঠে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

দীঘিনালা উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মেরুং ইউনিয়নের হেডকোয়ার্টার সেতু এবং সড়কের একাধিক অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া বড় মেরুং, আটারকছড়া ও তেঁতুল এলাকার সড়কও প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে মঙ্গলবার বিকেল থেকে দীঘিনালার সঙ্গে লংগদুর সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা টিম গঠন করা হয়েছে। মেরুং রাজাবাড়িসংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২৫টি পরিবারকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য খাবার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে অব্যাহত বর্ষণের কারণে খাগড়াছড়ি-মহালছড়ি সড়কের সিন্দুকছড়ি এলাকা এবং গুইমারা সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে সড়ক যোগাযোগ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়ায় জেলা প্রশাসন পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, সম্ভাব্য বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় জেলার ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।

অবিরাম বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় জেলার নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

(ঢাকাটাইমস/৯ জুলাই/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
বান্দরবান ও কক্সবাজারে পাহাড়ধসে শিশুসহ ৭ জন নিহত
কোন কোন ডিটক্স পানীয় রোজ সকালে খালি পেটে খেলে লিভার সুস্থ থাকবে
ঢাকাসহ দেশের ২০ জেলায় ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত
ইরানের একাধিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা, নিহত ৮ সেনা
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা