কবিতা
তোমার কবিতা

তুমি বললে, “আমার জন্যে একটি কবিতা লেখো।”
আমি মৃদু হেসে বললাম, “তুমি তো আমারই কবিতা।”
কবিতা কি কেবল শব্দের সমাবেশ?
তবে কেন তোমার দিকে তাকালেই ভাষা অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে?
আমি যখন জীবনের অর্থ খুঁজি,
তোমার উপস্থিতি এসে তার পাশে একটি প্রদীপ জ্বেলে দেয়।
যে কথা যুগের পর যুগ উচ্চারিত হয়নি,
তোমার নীরবতা কখনো কখনো তা-ই বলে ফেলে অবলীলায়।
তুমি আমার কাছে কোনো মানুষমাত্র নও—
তুমি সেই অদৃশ্য সেতু, যার উপর দিয়ে
একাকীত্ব পার হয়ে যায়।
আমি যতবার ভেঙেছি,
ততবার তোমার স্মৃতির ভেতর
একটি আশ্রয় খুঁজে পেয়েছি।
তুমি যেন এক অনন্ত পাণ্ডুলিপি,
যার প্রতিটি পৃষ্ঠায় নতুন করে জন্ম নেয় বিস্ময়।
তোমাকে নিয়ে কবিতা লিখতে গেলে
আমাকে আকাশের ভাষা জানতে হয়,
নদীর দীর্ঘশ্বাস বুঝতে হয়,
নক্ষত্রের নিঃসঙ্গতা অনুবাদ করতে হয়।
কারণ তুমি কোনো কবিতার বিষয় নও—
তুমিই সেই কবিতা, যার ছত্রে ছত্রে আমি লেখা।
আমি কলম ধরি,
আর দেখি—কালি নয়, ঝরে পড়ে আমার সমগ্র অস্তিত্ব।
তখন বুঝি,
তোমার জন্য কবিতা লেখা মানে
একটি ফুলকে তারই সুগন্ধ উপহার দেয়া,
একটি নদীকে তারই স্রোতের পরিচয় দেয়া।
তাই আজও কিছু লিখতে বসলে
শব্দেরা আমার কাছে আসে না;
তারা তোমার কাছেই ফিরে যায়
যেন সব কবিতারই শেষ ঠিকানা তুমি;
নি:স্বের কাছে যেমন আদিগন্ত বিস্তৃত
সোনাফলা ভূমি।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































