জবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ঘিরে সংঘর্ষ, ভিপি-জিএসকে মারধরের অভিযোগ; অস্বীকার ছাত্রদলের

দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নের দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদল ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) প্রতিনিধিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জকসুর ভিপি ও জিএসসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে ছাত্রদল।
মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
জকসু সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ কয়েকটি দাবিতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করেন জকসুর প্রতিনিধিরা। এ সময় তাদের বাধা দেওয়া হলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
জকসুর অভিযোগ, একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তাদের কাছ থেকে প্ল্যাকার্ড ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন এবং জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানাসহ প্রতিনিধিদের মারধর করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেন। হামলায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন জকসুর এজিএস।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, জকসুর প্রতিনিধিরা মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে এ এম রিফাত হাসান। ভিডিওতে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলকে ‘দরজা বন্ধ কর, দ্রুত গেট আটকা’ বলতে শোনা যায়। ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ অভিযোগ করেন, আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও তাদের মিলনায়তনে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং ধাক্কাধাক্কির শিকার হতে হয়েছে।
অন্যদিকে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি তুলে ধরতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। তিনি ঘটনার বিচার দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়ার হোসেন বলেন, জকসু প্রতিনিধি ও ছাত্রশিবির পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছে। তারা নিজেরাই নিজেদের প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ছাত্রদলের ওপর দায় চাপাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্যসচিব শামসুল আরেফিনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































