যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতা, হামলা-পাল্টা হামলা স্থগিত

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬
অ- অ+

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আপাতত হামলা-পাল্টা হামলা থেকে সরে এসে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোতে শুরু করেছে। আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের তৎপরতা এবং উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগও খোলা রাখছে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রস্তুত থাকলেও বর্তমানে আলোচনাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনে রাতের মধ্যেও নতুন হামলা চালানোর প্রস্তুতি ছিল। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের মূল মনোযোগ এখন উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা। এর অংশ হিসেবে আরব সাগরে অবস্থানরত মার্কিন রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে যুদ্ধবিমানগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয় এবং পাইলটরা বিশেষ মহড়ায় অংশ নেন।

এদিকে মার্কিন ফাইটার জেটগুলো দিন-রাত প্রতিরক্ষামূলক টহল অব্যাহত রাখলেও ইরানের দাবি অনুযায়ী নতুন কোনো হামলা চালানো হয়নি বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে উল্লেখ করে কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, প্রয়োজন হলে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চলার মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের ওপর নতুন করে কোনো হামলা চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এখনো ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, কাতার, পাকিস্তানসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশ গত কয়েক দিনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে একাধিক দফায় যোগাযোগ করেছে। তাদের প্রধান লক্ষ্য উভয় পক্ষকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা এবং উত্তেজনা হ্রাস করা।

মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক আঞ্চলিক সূত্রের ভাষ্য, প্রথম ধাপে দুই পক্ষকে সংঘাত কমানোর বিষয়ে সম্মত করানো এবং পরবর্তী কারিগরি বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারণে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, চলমান সংঘাত সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ থেকে সরে আসেনি। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য শুধু সংঘাতের অবসান নয়, বরং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই রাতে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার জেরে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ইরানের সামরিক অবকাঠামো, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র অবস্থান এবং লজিস্টিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ওই অভিযান পরিচালিত হয়।

এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। পরবর্তী সময়ে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলেও বর্তমানে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/১১ জুলাই/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
টাঙ্গাইলে নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, ঢাকা-উত্তরবঙ্গ রেল যোগাযোগ বন্ধ
মানবতাবিরোধী অপরাধে মাহবুব-উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড, তিন নেতার আমৃত্যু কারাদণ্ড
পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও মানবিক আচরণে ‘জনগণের পুলিশ’ গড়তে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে পতন