শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি অপেক্ষা করছে: নাহিদ ইসলাম

শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা যদি দেশে ফিরে, কেবলমাত্র ফিরবে ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য। ফলে সেটার জন্য আমরাও চাই যে ফাঁসির রায় কার্যকর হোক।
শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা উদ্যোগ (এমএসএমই) দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদান ও আলোচনা সভা আয়োজন করে ন্যাশনাল এসএমই ফাউন্ডেশন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, 'সরকার এক কোটি কর্মসংস্থানের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেখানে কোন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। বাজেটেও মিষ্টি মিষ্টি কথা বলা হয়েছে কিন্তু মানুষের জীবনের সংকট নিরসনের স্পষ্ট রূপরেখা এতে নেই। সরকার অর্থনৈতিক খাতে সংস্কারেও কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না, বরং উল্টোপথে হাটছে।'
রয়টার্সের প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজকে একটা ইন্টারভিউ আমরা দেখেছি, যে ডিসেম্বরে কেউ একজন দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেছেন। তো আমাদের দাবি থাকবে যে দেশ তো অলরেডি ১৬ বছরের ধ্বং*সয*জ্ঞের শিকার হয়েছে। এখন আমরাও চাই দেশে ফিরবে, ফাঁ/সির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য। বাংলাদেশে রায় হয়ে গিয়েছে। এখন এই সরকারের উচিত যথাযথ কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় গণহত্যাকারীকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা।’
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, 'শেখ হাসিনা কিভাবে আসবে, সে কাদেরকে নিয়ে আসবে, সে সারেন্ডার করবে কি করবে। এটা ঠিক করতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে। বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে দিল্লির সঙ্গে কথা বলবে। এখানে আর কোনো পক্ষ নাই। ফলে সরকারই ঠিক করবে তাকে কখন আনবে, কিভাবে আনবে এবং কিভাবে বিচারের রায় কার্যকর করবে। সকল প্রস্তুতি নিয়েই তাকে আনতে হবে।’
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, 'শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। দিল্লি থেকে তাকে যতটুকু পারমিট করা হয়, সে অনুযায়ী সে কথা বলে। ফলে শেখ হাসিনা আসবেন কি আসবেন না, কিভাবে আসবেন, বিচার হবে কি না?এসব মূলত দিল্লির সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ওপর নির্ভর করবে। শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ তো এখন কোনো রাজনৈতিক দলই নয়।’
জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীরা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যারা অংশগ্রহণ করেছে, রাজনৈতিকভাবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য তারা প্রস্তুত আছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতিকে রক্ষা করার জন্য আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছি।’
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘তবে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার যদি কোনো ধরনের পাঁয়তারা বা প্রচেষ্টা হয়, সরকার যদি সেটাকে প্রশ্রয় দেয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন সরকারই হবে। বাংলাদেশের আপামর জনগণ, জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী সব পক্ষ, ত্রিশ হাজার আহত ও ১ হাজার ৪০০ শহীদ পরিবারের সদস্য, আমরা সবাই প্রস্তুত আছি।’
আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন আওয়ামী লীগকে দলগতভাবে বিচারের আওতায় নেওয়ার কথা সরকারও ভাবছে। আমরা মনে করি, এটাই সঠিক রাস্তা। শেখ হাসিনার রায় অলরেডি হয়ে গিয়েছে। এখন এটা কার্যকর করতে হবে। শেখ হাসিনা যদি দেশে ফিরে, কেবলমাত্র ফিরবে ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য। ফলে সেটার জন্য আমরাও চাই যে ফাঁসির রায় কার্যকর হোক।’
অনুষ্ঠানে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের (পিসি) সদস্য আকরাম হুসাইন সিএফ তার বক্তব্যে বলেন, এই দেশে কোন দল তাদের নেতাকর্মীদের উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য কাজ করে না, এনসিপি তরুণদের দল হিসেবে এই কাজটি করছে এবং এটি আরও বড় পরিসরে করতে চায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক মোকলেসুর রহমান পলাশ উপস্থিত উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ নেওয়ার যেসব সুযোগ রয়েছে তা তুলে ধরেন। বিশেষত নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ গ্রহণে কোন অসুবিধায় পড়লে সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুরাদ কিবরিয়া এফসিএ বলেন, ব্যবসাগুলোকে ঢাকাকেন্দ্রিক না করে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে কাজ করতে পারে ন্যাশনাল এসএমই এসোসিয়েশন। বিশেষ করে আইটি এবং এগ্রো ব্যবসার ক্ষেত্রে ঢাকা না হলেই ভালো। জেলা শহরগুলোতে এবং এর আশপাশে ১৫ হাজারের মতো এরকম উদ্যোক্তা তৈরি করতে পারলে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা সম্ভব। গত ১৭ বছরে যে পরিমাণ ব্যাংক লুটপাট হয়েছে তাতে অর্থনীতি ভালো জায়গায় নিয়ে আসাটা অনেক কঠিন হবে। বড় ব্যবসাগুলোর চেয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসা এক্ষেত্রে বেশি কার্যকর ভূমিকা নিতে পারবে।
জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ইন্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল বলেন, সরকার বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক যুবদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এবং সত্যিকার আন্তরিক সেবা দিয়ে পাশে দাড়ালে এই যুবরাই দেশটাকে স্বনির্ভর দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে। দূর্ভাগ্যজনকভাবে দেখা যায় সরকার সেই কাজটি করছে না। সরকার শুধু বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সেবা দিতে চায়, দেশের কোটি কোটি তরুণদের ব্যবসার সুযোগ করে দিতে পারলে সেটি কাজের কাজ হতো।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এনসিপির আহ্বায়ক ইসহাক সরকার বলেন, বিরোধী দলীয় রাজনীতি করার কারণে গতকালও আমাদের একজন ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় তার নাম নেই, সিসিটিভি ফুটেজে তার দেখা নেই তবুও সে একজন দোকানদার তাকে ধরে নিয়ে গেছে। একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা দোকানদারকে ধরা সহজ, কিন্তু তার জন্য টিকে থাকা কঠিন। এই অযাচিত গ্রেপ্তারে সম্মুখীন হয়ে বহু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে তার ব্যবসাটা হারিয়ে ফেলতে দেখেছি। এই কষ্ট বলে বোঝানোর মত নয়।
অনুষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক উদ্যোক্তা উপস্থিত ছিলেন। নারায়ণগঞ্জের হামীম কনজুমারস লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম কনক, রংপুরের নিড ক্রাফট ডিজাইনের সুলতানা রাজিয়া, রাজধানীর বাড্ডার নিলাচল ইভেন্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঝিনাইদহের হাজারা এগ্রো অ্যান্ড ফুড প্রোসেসিংয়ের আহসানুল ইসলাম ডন, নরসিংদীর তানজিনা আক্তার ইতি, গাজীপুরের এমআরকে ম্যানুফ্যাকচারার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মজিবুর রহমান খোকন, ঢাকার রোজিনা ফরেন ট্রেডের রোজিনা আক্তার, গাজীপুরের ঘি উৎপাদনকারী মো. সোহানুর রহমান সোহান, ময়মনসিংহের লোভেন হেলথ অ্যান্ড বিউটি প্রোডাক্ট লিমিটেডের সানজিদা ইসলাম ছোঁয়া, ঢাকার ডেমরার ইজমা ব্রান্ডের কেএম শরিয়ত উল্লাহ, বরিশালের এনএফসি ইনফো কার্ডের মো. শরিফুল ইসলাম, লিড ন্যাশন একাডেমির হাসিব মাহমুদ এবং আঁচল ফাউন্ডেশনের তানসেন রোজকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়াও জুলাই শহীদ মারুফের বাবা মো. ইদরিস, জুলাই শহীদ মেহেরুন্নেসার বাবা মো. মোশারফ হোসেন এবং প্রশিক্ষক কামরুল হাসান শিমুলকেও সম্মাননা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাতীয় নারীশক্তির সংগঠক সাইয়েদা জান্নাত। অনুষ্ঠান শেষে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক কাজী ফখরুল ইসলাম ও সদস্য সচিব মো. দিদার শাহ সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































