নৌবাহিনী প্রধান হলেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ভাইস অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতি দিয়ে নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
আগামী ২৩ জুলাই অপরাহ্ন থেকে তাঁর নিয়োগ কার্যকর হবে। তিনি তিন বছরের জন্য এ দায়িত্ব পালন করবেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা-বাহিনীসমূহের প্রধানদের (নিয়োগ, বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা) আইন, ২০১৮ অনুযায়ী রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে আগামী ২৩ জুলাই অপরাহ্নে ভাইস অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে। একই দিন থেকে আগামী ২২ জুলাই ২০২৯ অপরাহ্ন পর্যন্ত তাঁকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উপসচিব এম. জে. আরিফ বেগ সই করেছেন।
এদিকে চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার আগে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান।
বৃহস্পতিবার সেনা সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় দুই বাহিনীর পারস্পরিক আস্থা, পেশাদারিত্ব এবং আন্তঃবাহিনী সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই বাহিনীর প্রধান।
নৌবাহিনীর নতুন প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিরক্ষা বিষয়ে স্নাতকোত্তর (এমডিএস) ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ছাড়া ভারতের মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং চীনের ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি থেকে কৌশলগত অধ্যয়ন (স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ) বিষয়ে আরও দুটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রিতেই তিনি প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। তিনি এমফিল ডিগ্রির পাশাপাশি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে সমসাময়িক সামুদ্রিক সুশাসন বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। তাঁর গবেষণাভিত্তিক একাধিক প্রবন্ধ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
সামরিক দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি কূটনৈতিক অঙ্গনেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে ওমানের রাজধানী মাসকাটে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তিনি মালয় ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে পারেন। এ ছাড়া ফরাসি ভাষারও প্রাথমিক জ্ঞান রয়েছে।
ব্যক্তিগতজীবনে তিনি বই পড়া ও লেখালেখিতে আগ্রহী। নিয়মিত গলফ খেলেন। পাশাপাশি দাবা, বাস্কেটবল ও টেবিল টেনিস খেলতে এবং সমসাময়িক আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির ওপর নজর রাখতে পছন্দ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নুরতাজ আজীমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ।
তাঁদের দুই মেয়ে—নুজাবাহ ও মেহতাজ। বড় মেয়ে নুজাবাহ বর্তমানে প্রাইসওয়াটারহাউসকুপারস (পিডব্লিউসি) বাংলাদেশে কর্মরত। ছোট মেয়ে মেহতাজ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের হুইটম্যান কলেজে স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়ন করছেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































