শিশুকে দুধ খাওয়ানোর সময় চাচিকে কুপিয়ে হত্যা, ভাতিজা আটক

শেরপুর সদর উপজেলায় কোলে থাকা শিশুকে দুধ খাওয়ানোর সময় রোকেয়া বেগম (৩৬) নামের এক নারীকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ভাসুরের ছেলে আরিফ হোসেনের (২০) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আরিফকে আটক পুলিশ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের চরসাপমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রোকেয়া বেগম তিন সন্তানের মা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে বাড়ির উঠানে চেয়ারে বসে কোলে থাকা ছোট শিশুকে দুধ খাওয়াচ্ছিলেন রোকেয়া বেগম। এ সময় তাঁর ভাসুর মওলা মিয়ার ছেলে আরিফ হাতে ধারালো দা নিয়ে সেখানে যান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি রোকেয়া বেগমের ওপর হামলা চালান। দা দিয়ে তাঁর গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি কোপ দেওয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর রক্তমাখা পোশাক পরেই আরিফ নিজের ঘরে চলে যান। সেখানে গোসল করে আত্মগোপনের চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খবর পেয়ে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন চন্দ্র ঘোষের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে আরিফের বসতঘরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘর থেকে পরনের রক্তমাখা ফুলপ্যান্ট উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, আরিফ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তবে মাদকাসক্তির বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত করেনি। কী কারণে রোকেয়া বেগমকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শেরপুর সদর থানার ওসি খোকন চন্দ্র ঘোষ বলেন, নিহত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
(ঢাকা টাইমস/১৬সেপ্টেম্বর/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












