আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনা ফ্যাসিবাদ আমলের চরম উদাহরণ: অ্যাটর্নি জেনারেল

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডকে ফ্যাসিবাদ আমলের চরম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
আগামী ৭ অক্টোবর আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচারিক দিক তুলে ধরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ আমলে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা ব্যক্তিরা অপরাধ করেও পার পেয়ে যাওয়ার কথা মনে করতেন। তবে অপরাধীকে শেষ পর্যন্ত বিচার ও শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়—আবরার হত্যা মামলার রায়ের মাধ্যমে সেটিই প্রমাণিত হয়েছে।
আবরার হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায় বহাল থাকায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেনি উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এ মামলায় আমাদের অবস্থান হচ্ছে—আমরা কোনো বিলম্ব ঘটাতে চাই না। নাগরিকের দ্রুত বিচার পাওয়ার যে সাংবিধানিক অধিকার, আমরা সেটি নিশ্চিত করতে চাই।’
তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মামলাটির শুনানি শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে কোনো ধরনের বিলম্ব করা হবে না। এমনকি একদিনের জন্যও শুনানি মুলতবি চাওয়া হবে না। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত হওয়া উচিত এবং মানুষ মামলাটির রায় কার্যকর দেখতে চায়।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে পিটিয়ে হত্যা করা হয় তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে। নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা সবাই বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ছিলেন।
আলোচিত এই হত্যা মামলায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ রায় দেন। রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এরপর ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন।
হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা ২০ আসামি হলেন—মেহেদী হাসান (রাসেল), মো. অনিক সরকার, মেহেদী হাসান (রবিন), ইফতি মোশাররফ, মো. মনিরুজ্জামান, মো. মেফতাহুল ইসলাম, মো. মাজেদুর রহমান, মো. মুজাহিদুর রহমান, খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম, হোসাইন মোহাম্মদ তোহা, মো. শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, মুনতাসির আল (জেমি), মো. শামসুল আরেফিন, মো. মিজানুর রহমান, এস এম মাহমুদ, মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল, এহতেশামুল রাব্বি ও মুজতবা রাফিদ।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকা পাঁচ আসামি হলেন—মুহতাসিম ফুয়াদ হোসেন, মো. আকাশ হোসেন, মুয়াজ আবু হুরায়রা, অমিত সাহা ও ইশতিয়াক আহমেদ।
এদিকে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কয়েকজন আপিল ও লিভ টু আপিল করেছেন। এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি এখন উচ্চ আদালতের পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
(ঢাকাটাইমস/৬ অক্টোবর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













